kalerkantho


স্বশিক্ষিত

চিত্রশিল্পী আল আমিন

প্রেমের কথা বলেন আল আমিন। দেশের কথাও বলেন। বলেন ছবির ভেতর দিয়ে। তিনি একজন স্বশিক্ষিত শিল্পী। কাজের ফাঁকে পড়ান পথশিশুদের। রায়হান রাশেদ বলছেন তাঁর কথা

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চিত্রশিল্পী আল আমিন

১৯৭৬ সালে আল আমিনের জন্ম । তিতাস নদীর পূর্বপারের আদমপুরে। তাঁর বাবা রেল চালাতেন। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই আঁকিবুঁকি করেন। দাদা সেবার চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী ছিলেন। বাড়িভরা পোস্টার ছিল। পোস্টারের ছবির ওপর সাদা পাতলা কাগজ রেখে কলম দিয়ে আঁকতেন। একসময় ছবি আঁকা তাঁর নেশায় দাঁড়িয়ে যায়। গাঁয়ের মাটির ঘরের দেয়ালগুলোয় বাঁশের কঞ্চি, চকখড়ি মাটি ও কাঠি দিয়ে ছবি আঁকতেন। তখন কোনো একটা রিকশার পেছনে অভিনেত্রী বিপাশার ছবি আঁকা দেখেছিলেন। সেই ছবিটি অনেকবার এঁকেছেন।

আল আমিনের আঁকা বাউল

অষ্টম শ্রেণিতে আর্টের দোকান

প্রাইমারি স্কুল শেষ করে ভর্তি হন চম্পকনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে। হাতের লেখা সুন্দর ও পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় শিক্ষকরা তাঁকে স্নেহ করতেন। তাঁকে আরো আঁকতে উৎসাহ দিতেন। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্থানীয় বাজারে আর্টের দোকান দিয়ে ফেলেন আল আমিন। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে ব্যানার লিখতে থাকেন। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য দেয়ালে স্লোগান লিখতেন। ইন্টারমিডিয়েট শেষ করার পর আর্ট শিখতে আল আমিন ঢাকায় আসেন। জাজমেন্ট অ্যাড নামের একটি দোকানে ব্যানার লেখার কাজ পান। দোকানি সম্পর্কে তাঁর নানা ছিলেন। সিনিয়র আর্টিস্টদের কাজ দেখে দেখে শিখতে থাকেন তিনি। খেয়াল করতেন তাঁদের হাত ঘোরানো বা লেখার স্টাইল। দিনের বেলায় যা শিখতেন, রাত জেগে তা প্র্যাকটিস করতেন।

বিমূর্ত ছবিও আঁকেন আল আমিন

নারায়ণগঞ্জে নিজের দোকান

এক আত্মীয় মারফত নারায়ণগঞ্জে ‘মিতা আর্ট’ নামের একটি দোকান দেন। সেখানে তিন বছর ছিলেন। তারপর নরসিংদীতে একটা দোকানে চাকরি নেন। ছয় মাস পর আবার নিজের দোকান খোলেন। নাম রাখেন তিতাস আর্ট। অল্প দিনেই নাম ছড়িয়ে পড়ে। কাজের সুবাদেই নরসিংদীর তরুণ কবি রবিউল আলম নবি, মো. ফয়েজুল কবির এবং সম্পাদক ও সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মামুন রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তাঁরা তাঁকে নতুন নতুন ভাবনা দেন। বিমূর্ত ছবিও আঁকতে বলেন। করতে থাকেন প্রচ্ছদ ডিজাইন। বলেন, ‘তাঁরা খুব প্রশংসা করতেন। উৎসাহ দিতেন। আমাকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে খাওয়াতেন।’ নরসিংদী সরকারি কলেজের বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের দেয়ালিকার প্রচ্ছদ এঁকে পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি তার পর দুই হাতে ছবি আঁকতে থাকেন। সমাজের নানা অসংগতি ফুটে উঠতে থাকে তাঁর ছবিতে। অসহায়-নিপীড়িত মানুষের ছবিও আঁকতেন। আঁকেন দেশমাতৃকার ছবি। তাঁর ছবি দেখে খুশি হয়েছেন কবি আবু হাসান শাহরিয়ার। নিজের বাড়িতে দাওয়াত করে খাইয়েছেন।

আল আমিনের ছবিঘর

নানা সামাজিক কাজে

সপ্তাহের দুই দিন আল আমিন ও তাঁর বন্ধুরা নরসিংদী স্টেশনে পথশিশুদের পড়ান। বইপত্র দেন। পথশিশুরা যেন অন্যের কাছে হাত না পাতে, তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় আব্দুল্লাহ আল মামুন রাসেলের নেতৃত্বে রোপণ করেছেন দুই হাজার বৃক্ষ। দেয়ালে দেয়ালে আঁকছেন প্রতিবাদচিত্র। আল আমিন বলেন, ‘খুব বেশি রোজগার করি না; কিন্তু যতটা করি তার মধ্য থেকে কিছু বাঁচিয়ে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করি।’


মন্তব্য