kalerkantho


সিংড়ায় আড়াই শতাধিক সরকারি গাছ বিক্রি

নাটোর প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছাতারদিঘী ইউনিয়নের সরকারি পানাউল্লাহ খালের দুই ধার থেকে অবৈধভাবে আড়াই শতাধিক গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন আকন্দের বিরুদ্ধে। আনুমানিক ১০ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি গাছ মাত্র ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি।

২০০৩ সালে নাটোর বন বিভাগ থেকে ইউক্যালিপটাস ও বেলজিয়াম জাতের প্রায় তিন হাজার গাছ সংগ্রহ করেন স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল জলিল। ২০ জন সদস্য নিয়ে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে একলাসপুর বাজারসংলগ্ন পানাউল্লাহ খালের দুই ধারে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় গাছগুলো লাগান তিনি। এরপর থেকে রাহেলা, হালিমা বেগমসহ সামাজিক বনায়নের লোকজন গাছগুলো পরিচর্যা করে বড় করে। এলাকার শত শত কৃষক কৃষিকাজ করে খালের দুই ধারে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিত।

সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী বক্কর সরদার, এরশাদ সরদার, মামুন হোসেন, মুজিবুর রহমান জানান, প্রদীপ কুমার রুদ্র যখন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন (২০০২-২০০৩ সাল) তখন তাঁরা গাছগুলো লাগিয়েছিলেন। এরপর কাগজপত্র করার জন্য বারবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছেন তাঁরা। সম্প্রতি প্রদীপ কুমার মারা যাওয়ার কারণে আর কাগজপত্র করা হয়নি। গাছগুলো না কাটার জন্য তাঁরা সবাই আপত্তি জানিয়েছিলেন। অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন আকন্দ বলেন, ‘নতুনভাবে ওই খালের দুই ধারে আবারও গাছ লাগানো হবে। তাই মৌখিকভাবে এক ব্যক্তির কাছে গাছগুলো ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। যারা উপকারভোগী হিসেবে দাবি করছে, তাদের কোনো কাগজপত্র নেই। এরপরও তাদের বিষয়টি দেখা হবে বলে জানিয়েছি।’

সিংড়া উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে যাচ্ছি। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সরকার জানান, বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য