kalerkantho


ফেসবুকে পরিচয়, প্রেম

বিয়ে করতে গিয়েই নারীর সর্বনাশ

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



ফেসবুকে পরিচয়ের পর প্রেম। এরপর বিয়ে করতে গিয়ে গণধর্ষিত হয়েছেন বিদেশফেরত নারী (২৮)।

এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বিধবা ওই নারী পাঁছ বছর ধরে জর্দানের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ফেসবুকে পরিচয় হয় সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মাসুদ মিয়া ওরফে জুয়েল মিয়ার (৩২) সঙ্গে। সে ঈশ্বরগঞ্জের উজান চরনওপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। এক বছর ধরে ফেসবুকে কথা চালাচালির পর জুয়েল বিয়ের প্রস্তাব দেয়। ওই নারী গত ৬ জুলাই দেশে আসেন। তিনি পুরান ঢাকায় ভাইয়ের বাসায় ওঠেন। সেখানে জুয়েল ও তাঁর বন্ধু সজিব ওরফে সাঈদ দেখা করে। জুয়েল প্রস্তাব দেয় তার বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জে এসে বিয়ে করার জন্য।

এ জন্য গত রবিবার বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। ঈশ্বরগঞ্জ সদরে আসতে তাঁদের রাত হয়ে যায়। জুয়েল দুই বোনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে বলে। রাত ১১টার দিকে ওই স্থানে পৌঁছলে বড় বোনকে দুই-তিনজন হঠাৎ ধরে নিয়ে যায়। আর বিদেশফেরত নারীকে একটি বেড়িবাঁধের কাছে নিয়ে ওত পেতে থাকা সাত-আটজনের কাছে তুলে দেয়। এ অবস্থায় জুয়েলের নেতৃত্বে সবাই যৌন নির্যাতন করে। একপর্যায়ে জুয়েল তাঁকে অপেক্ষমাণ ওই সিএনজিতে উঠে চলে যেতে বলে। সেই সঙ্গে বলে দেয়, পথে তাঁর বোনও সিএনজিতে উঠবে। এ কথায় রাজি না হলে তাঁকে অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি আক্তারুজ্জমান শরাফের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সকালে তাঁকে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়।

রাজিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম মোতাব্বিরুল ইসলাম জানান, ওই দুই নারীর বক্তব্য শুনে তিনি তাত্ক্ষণিক ঘটনাটি ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশকে জানান। সেই সঙ্গে তাঁদের সঙ্গে কোনো টাকা-পয়সা না থাকায় এক হাজার টাকা দিয়ে সহায়তা করেন। এ অবস্থায় গত শুক্রবার গণধর্ষণের শিকার নারী তাঁর এক চাচাকে সঙ্গে নিয়ে এসে ৯ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলো কথিত প্রেমিক জুয়েল মিয়া, আবু সাঈদ, আজমল, নাসির উদ্দিন, বোরহান উদ্দিন, আবদুল মজিদ, কামাল হোসেন, রিপন মিয়া ও মোরশেদ মিয়া। এর মধ্যে রিপন মিয়ার বাড়ি নান্দাইলে ও মোরশেদ মিয়ার বাড়ি গফরাগাঁওয়ে। অভিযুক্তদের মধ্যে বোরহান উদ্দিনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সে স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি বদরুল আলম খান বলেন, মামলা হওয়ার পর রাতে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে রয়েছে।


মন্তব্য