kalerkantho


রাজারহাটে বৃক্ষরোপণ উৎসব আজ

প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন!

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন!

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ‘সবুজ ও পরিচ্ছন্ন রাজারহাট গড়ি’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত উপজেলাজুড়ে সাত লাখ গাছ লাগানো হবে। উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছেন রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এদিকে প্রকল্পের আয়-ব্যয় নিয়ে অস্বচ্ছতা, চারা রক্ষণাবেক্ষণ ও মালিকানা নির্ধারণ না করা, ছোট আকারের অপরিপক্ব চারা কেনাসহ বেশ কিছু কারণ দেখিয়ে প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ৫০১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কাঁচা-পাকা রাস্তার দুই ধারে এবং শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় ৬৩ প্রকার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। স্থানীয় জনগণের দেওয়া বাঁশ, শ্রম ও চারার পাশাপাশি ৪৫ লাখ টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের উদ্যোক্তা। এ ক্ষেত্রে এক লাখ চারা উৎপাদন ছাড়াও পাঁচ থেকে আট টাকা দরে সাড়ে পাঁচ লাখ চারা কেনা হয়েছে। ৩২ হাজার শিক্ষার্থীসহ এক লাখ ১৫ হাজার মানুষ এ কর্মযজ্ঞে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজারহাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নুর মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, উপজেলার প্রায় সব রাস্তায় গাছ লাগানো আছে। চারদিকে জঙ্গল ও ছায়াঘেরা রাস্তা রয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় দুই লাখের বেশি গাছ লাগানোর মতো অবস্থা নেই। কাগজে-কলমে সাত লাখ গাছ দেখানো হলেও তা বাস্তবসম্মত নয়।

রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে কিছু না জানিয়ে ইউএনও সাহেব একক সিদ্ধান্তে সবকিছু করছেন।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হবিবর রহমান হবি বলেন, প্রকল্পের আয়-ব্যয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই। কাউকে কোনো কিছু জানানো হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি থেকে লোকাল গভর্নমেন্ট সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি) প্রকল্পের চার লাখ করে টাকা নেওয়া হয়েছে। নাজিমখান ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুই লাখ করে নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে এবং কলেজ-মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন হারে চাঁদা নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে চাকিরপশার ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ সোহরাওয়ার্দী বাপ্পি বলেন, এলজিএসপি থেকে এত টাকা বৃক্ষরোপণ বাবদ খরচ করার বিধান নেই।

বিদ্যানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ৭২ হাজার গাছ লাগানোর টার্গেট দেওয়া হয়েছে। চর এলাকায় এত গাছ লাগানোর জায়গা নেই। পরিষদ থেকে যে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে, দেড় থেকে দুই ফুট চারা ছাগল-গরুর মুখ থেকে কিভাবে বাঁচাব তাই নিয়ে চিন্তা করছি। ’

একই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার হোসেন আলী জানান, তাঁর এলাকায় চারটি রাস্তায় ১৩ হাজার ৮০০ গাছ লাগানোর কথা। খুঁটি পেয়েছেন মাত্র ছয় হাজার। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তায় এত চারা লাগানোর সুযোগ নেই। তা ছাড়া গাছ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও কাউকে দেওয়া হয়নি।

কুড়িগ্রাম থেকে রাজারহাট যাওয়ার পথে দীনবাজারে পিকআপে চারা তুলছিলেন স্থানীয় শিল্পী নার্সারির মালিক সম্বারু রায়। দেখা গেল কোনো কোনো চারার দৈর্ঘ্য তিন ফুটেরও কম। তিনি  জানান, তাঁর নার্সারি থেকে পাঁচ টাকা দরে এক হাজার ৭০০ চারা কেনা হয়েছে। চারাগুলো ঘড়িয়ালডাঙায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, অন্য এলাকা থেকে সংগ্রহ করা চারা আরো ছোট সাইজের।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম প্রকল্পে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘২৭০টি মিটিং করেছি। অনেক দিন ধরে প্রস্তুতি চলছে। পুরো রাজারহাটে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আর গাছের মালিকানার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ, রাস্তার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে অংশীদারি থাকবে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ছোট ছোট ইউনিট করা হয়েছে। সামাজিক অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ সফল হলে। তা ছাড়া সবাই মিলে চারাও রক্ষা করা সম্ভব হবে। ’


মন্তব্য