kalerkantho


ব্যানানা ম্যাংগো

আহসান হাবিব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ (আঞ্চলিক)   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ব্যানানা ম্যাংগো

ব্যানানা ম্যাংগো। এই আমের প্রতি মানুষের কৌতূহল একটু বেশিই। স্বাদে-গন্ধে অনন্য এই আমের দামও বেশি। এগুলো চাষের পদ্ধতিও সহজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

গত কয়েক বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বিপ্লব ঘটেছে। আমের বাগান বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি নতুন জাতও উদ্ভাবিত হয়েছে।

একই সঙ্গে বেশ কিছু জাতের আম সম্প্রসারিত হয়েছে। এর মধ্যে বারী-৩, বারী-৪, বারী-১০, বারী-১১, হাঁড়িভাঙ্গা, গৌড়মতি ও ব্যানানা ম্যাংগো উল্লেখযোগ্য। তবে ব্যানানা ম্যাংগোর (দেখতে কলার মতো) প্রতি মানুষের কৌতূহল একটু বেশিই। স্বাদে-গন্ধে অনন্য এ আমের দামও বেশি। তেমনি এর চাষের পদ্ধতিও সহজ। বাজারে ব্যাপক চাহিদার পাশাপাশি চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এ আমের বাগানের সংখ্যাও। রপ্তানিযোগ্য নাবি জাতের এই আমের ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

৩৫০ থেকে ৪৫০ গ্রাম ওজনের আমটি ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের কারণে এরই মধ্যে চাষিদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। চাষপদ্ধতি সহজ হওয়ায় এ আম চাষ করে আর্থিক সচ্ছলতার মুখ দেখছে চাষিরা।

দেরিতে পাকার কারণে দামও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণত জুলাইয়ের পর থেকে বাজারে যখন ভালো মানের আমের সরবরাহ কমে আসে, তখন অর্থাৎ আগস্টের প্রথম দিকে পাওয়া যায় এ আম। স্বাদে আম্রপালি, ল্যাংড়া ও হিমসাগরের মতোই। তবে দামটা একটু বেশি। ব্যানানা ম্যাংগো অন্তত ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে থাকে।

এ আম চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে সফল হবেন চাষিরা—এমনটাই বলছেন ফল গবেষকরা। এ জাতটি নজর কেড়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগেরও। চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ২০১০ সালে থাইল্যান্ড থেকে এ জাতের ডগা নিয়ে এসে প্রথমে গ্রাফটিং করা হয়। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারে দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য কাজ শুরু হয়। ২০১২ সালে প্রথম সাফল্য আসে। এরপর প্রতিবছর নিয়মিত আম আসায় ২০১৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে কৃষকদের মধ্যে এ আমের সম্প্রসারণকাজ শুরু হয়।

জহুরুল ইসলাম আরো জানান, ছাদে, টবে বা ড্রামেও অনেকে এ আমের চাষ করছে। বাংলাদেশের সব জেলার সব ধরনের মাটিই এ আম চাষের উপযোগী।

তিনি বলেন, গাছ লাগানোর (বর্তমানে রোপণের মৌসুম) পরের বছরই এক-দুই কেজি আম ধরার সম্ভাবনা থাকলেও লাগানোর পর আসা প্রথমবার মুকুল ভেঙে দেওয়া উচিত। তাহলে পরের বছর গাছের বেড়ে ওঠা ঠিক থাকবে।

রপ্তানিযোগ্য নাবি জাতের এ আমের চাহিদা ও বাজারমূল্য ব্যাপক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এই আমের চাষ নিয়ে আশাবাদী বলে জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারে উপপরিচালক ড. মো. সাইফুর রহমান। তিনি জানান, সারা দেশেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের ব্যাপক চাহিদা। ব্যানানা ম্যাংগো সেই পালে নতুন হওয়া দিচ্ছে। থাইল্যান্ডভিত্তিক এ আম স্বাদে ও গন্ধে মনকাড়া। দেখতে কলার মতো লম্বা, পাকার সময় দুধে আলতা মেশানোর মতো হলুদ থেকে গোলাপি রঙের, আঁটি চোকা পাতলা, ভক্ষণযোগ্য অংশ ৮৩ শতাংশ।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম আমিনুজ্জামান জানান, ব্যানানা ম্যাংগোর জাত উদ্ভাবনে কৃতিত্ব কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের। এ জাত উদ্ভাবনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যান তত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের তেমন কোনো কৃতিত্ব নেই।

আম চাষি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গত বছর সাপাহার থেকে ব্যানানা ম্যাংগোর ৪০০ গাছ এনে আমনুরা লক্ষ্মীপুর মোড়

এলাকায় রোপণ করি। সব গাছেই মুকুল এলেও ৩৮০টি গাছের মুকুল ভেঙে ফেলি। প্রথম বছর লাগানো বাকি ২০টি গাছে ৮-১০টি করে আম ধরে। ’

শিবগঞ্জের শাহবাজপুর এলাকার আম চাষি দুরুল হুদা বলেন, ‘দুই বছর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টার থেকে ১০০ চারা নিয়ে নাচোল এলাকায় বাগান করি। এবার ১০০ গাছে আম হয় চার মণ। আগে লাগানো গাছে কলম করে এবার ৫০০ চারা করেছি। এসব চারা এবার লাগাব। ব্যানানা ম্যাংগো পাকা শুরু হয় জুলাইয়ের শেষ দিকে। এর দাম ভালো। স্বাদ ও গন্ধ অতুলনীয়। এবার বাগান বৃদ্ধির জন্য বারী-৪ ও ব্যানানা ম্যাংগোর অন্তত পাঁচ হাজার গাছ লাগাব। আর বাকি গাছের চারা বিক্রি করে দেব। ’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার গাছ রোপণ করে উৎসাহী আম চাষিরা। লাগানোর দুই বছর পর সেই গাছ থেকে কলম করে বাগান সম্প্রসারণ করেছে অনেকেই। এমনভাবে গত দুই বছরে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার চারা সম্প্রসারিত হয়। এবারও অন্তত পাঁচ হাজার চারা রোপণ করা হবে।


মন্তব্য