kalerkantho


সৈয়দপুরে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে সৈয়দপুর থানায় মামলাটি করেন ওই বিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রীর বাবা।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, মেয়েটি (১৬) একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে প্রধান শিক্ষক তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। চলতি বছরের ৩ মে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে মেয়েটিকে তাঁর সৈয়দপুর শহরের নতুনবাবুপাড়ার বাসায় নিয়ে যৌন নির্যাতন করেন। মেয়েটি কান্নাকাটি করতে থাকলে প্রধান শিক্ষক তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। ঘটনাটি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন। এদিকে গত শনিবার বিকেলে প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী আসমা বেগম কয়েকজন অপরিচিত লোকজন সঙ্গে নিয়ে মেয়েটির বাড়িতে যান। তাঁরা মেয়ে ও তার মা-বাবাকে নানা ভাষায় গালাগাল করেন। এতে করে পরিবার ও গ্রামবাসী ঘটনাটি জানতে পারে।

এ ঘটনার পর গ্রামবাসী ও বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

গত সোমবার তাঁরা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের বিচার ও তাঁকে অপসারণের দাবিতে অবস্থান নেন। এ সময় বিদ্যালয়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির তৈরি হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সৈয়দপুর থানা পুলিশ সদস্যরা ছুুটে আসেন। অন্যদিকে, খবর পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোখছেদুল মোমিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বজলুর রশীদ, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেহেনা ইয়াসমীন, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহজাদী, কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আব্দুল গফুর সরকার বিদ্যালয়ে আসেন। তাঁরা মেয়েটির মুখে বিস্তারিত শুনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। অভিভাবক ও এলাকাবাসী শান্ত হয়ে ফিরে যান। এর পর রাতে সৈয়দপুর থানায় মামলা হয়।

এ বিষয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন মুঠোফোনে বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটি পরিকল্পিত ও সাজানো ঘটনা। আমি যোগদানের পর থেকে এলাকার একটি স্বার্থান্ব্বেষী কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে। এর আগেও আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু সেসব কোনো কাজে আসেনি। এবার তারা একটি ছাত্রীকে দিয়ে আমার নামে মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছে। ওই ছাত্রী আমাকে বিরক্ত করত, যা আমি এর আগে সভাপতিকে জানিয়েছি। ’


মন্তব্য