kalerkantho

তানিয়ার ফেরা

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



তানিয়ার ফেরা

মায়ের সঙ্গে তানিয়া

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দরিবৃ গ্রামের ৯ বছর বয়সী তানিয়া ৯ বছর আগে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে ঢাকায় যায়। ৯ মাস পর ওই বাসা থেকে সে নিখোঁজ হয়।

এর মধ্যে এ নিয়ে তানিয়ার পরিবার ওই গৃহকর্তার বিরুদ্ধে হত্যার পর লাশ গুম করার অভিযোগ তোলে। তা ছাড়া গ্রাম্য সালিসে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অবস্থায় ছয় দিন আগে তানিয়া গ্রামের বাড়ি এসে হাজির হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

খবর পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের দরিবৃ গ্রামে গিয়ে জানা যায়, দিনমজুর চান মিয়ার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে ইয়াছমিন আক্তার তানিয়া দ্বিতীয়। ২০০৮ সালে ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার একটি বাসায় কাজের জন্য দেওয়া হয় তানিয়াকে। গৃহকর্তা পাশের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বৃ-বড়ভাগ গ্রামের প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান। নিজের সন্তানকে দেখাশোনার জন্য তানিয়াকে তিনি এলাকা থেকে নেন। কিন্তু ৯ মাসের মাথায় তাঁর মেয়েকে কোচিং থেকে আনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় তানিয়া।

এদিকে দীর্ঘদিনেও সন্ধান দিতে না পারায় পরিবারের লোকজন গৃহকর্তা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে তানিয়াকে হত্যার পর লাশ গুম করার অভিযোগ তোলে। তারা বিষয়টি নিয়ে ঢাকার পল্লবী ও ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগও জানায়। কিন্তু সঠিক তথ্য দিতে না পারায় এবং বিষয়টি নিয়ে থানায় নিখোঁজ জিডি থাকায় পুলিশ অভিযোগটি রেকর্ডভুক্ত না করে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। এ অবস্থায় মেয়েকে না পেয়ে দিনমজুর বাবা ও তার পরিবারের লোকজন গৃহকর্তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে মেয়ে উদ্ধারের জন্য চাপ দেয়। একপর্যায়ে ওই গৃহকর্তার বিরুদ্ধে সালিস বসানো হয়। সালিসে মেয়েটির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত ও হত্যার অপবাদ নিয়ে বেকায়দায় পড়েন গৃহকর্তা হাবিবুর রহমান। এ অবস্থায় গত বুধবার সকালে ঢাকার একটি পরিবার তানিয়াকে নিয়ে তার মায়ের কাছে হাজির হয়।

তানিয়া জানায়, কোচিং থেকে বাড়িওয়ালার মেয়েকে আনতে গিয়ে সে রাস্তা হারিয়ে ফেলে। এরপর সে এক দোকানে বসে কাঁদতে থাকলে এক নারী তাকে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে আরেকটি বাসায় পাঠানো হয় তাকে। দীর্ঘদিন ওই বাসায় থাকার পর কয়েক দিন আগে সে নিজের মা-বাবা ও ঈশ্বরগঞ্জের সোহাগী এলাকার নাম বলে। তানিয়াকে আশ্রয় দেন ঢাকার শহীদবাগ এলাকার কলেজ শিক্ষক শামছুন নাহার। তিনি জানান, মেয়েটিকে তার খালাতো বোনের মাধ্যমে তাঁরা পান। তার মা বাসায় একা থাকায় মেয়েটিকে রাখা হয়। ওই সময় তাকে অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করেও তার পরিবারের ঠিকানা জানা সম্ভব হয়নি। কিন্তু কয়েক দিন আগে সে তার মা-বাবা ও সোহাগী এলাকার কথা বলে বাড়ি যেতে চায়। শেষ পর্যন্ত তাঁরা মেয়েটির কথামতো তার বাড়ি নিয়ে আসেন।

এদিকে তানিয়ার তখনকার গৃহকর্তা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন উপায়ে তাকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা হয়। শেষ পর্যন্ত পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। এরপরও তাঁর বিরুদ্ধে মেয়েটিকে হত্যার অভিযোগ তুলে জরিমানা ধার্য করা হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এ জন্য সমাজেও তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন হতে হয়েছে। মেয়েটি ফিরে আসায় এখন তিনি ভারমুক্ত হয়েছেন।


মন্তব্য