kalerkantho


ঈশ্বরগঞ্জে প্রেমিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ আত্মহত্যার চেষ্টা তরুণীর

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে প্রেমিক কর্তৃক তরুণী (১৮) ধর্ষণের শিকার হয়ে বিদ্যুতের তার শরীরে জড়িয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের মরিচার চর নামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তরুণীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধর্ষিতা তরুণীর বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজীবপুর ইউনিয়নের মরিচারচর নামাপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় গতকাল মেয়ের মা বাদী হয়ে মরিচার চর মাইজপাড়া গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে মো. রতন মিয়াকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেছেন।

মামলার বিবরণ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রতন গাজীপুর জেলায় অবস্থিত একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে। তরুণীর সঙ্গে রতনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে গত রবিবার তরুণীকে নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা করে। কিন্তু রতন সেখানে না গিয়ে ত্রিশাল উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত তার আত্মীয় বাড়িতে রাত কাটায়। রতন ওই বাড়িতে মেয়েটিকে দুই দিন রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে মেয়ের অভিযোগ। পরদিন তরুণীকে ওই বাড়িতে রেখে রতন কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

পরে ছেলের (রতন) মামা সবুজ মিয়া মেয়েটিকে গত সোমবার ত্রিশাল থেকে এনে তাঁর নিজ বাড়ির সামনে রেখে চলে যায়। এ সময় লোকজন টের পেয়ে সবুজ মিয়া ও আব্দুল মালেক নামে দুজনকে আটকে রাখে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শহিদুল হক শহিদ তাঁদের দুজনকে সালিসের কথা বলে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় বাড়ির লোকজন মেয়েটিকে ঘরে নিয়ে গেলে সে ঘটনাটি প্রকাশ করে।

মেয়েটির চাচি বলেন, পরিবার তথা প্রতিবেশীদের বিভিন্ন কথাবার্তায় ঘটনার পর থেকে মেয়েটি বিপর্যস্ত ছিল। সোমবার তাঁকে চোখে চোখে রাখা হয়। কিন্তু গতকাল সকালে ‘এ জীবন রেখে কী লাভ’ এ কথা বলে মেয়েটি ঘরে ঢুকে বিদ্যুতায়িত তার জড়িয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তাঁর চিৎকার শুনে বাড়ির অন্য লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সংকটাপন্ন অবস্থায় মেয়েটিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুয়েল রানা বলেন, হাসপাতালে আসার পর থেকে মেয়েটি কোনো কথা বলতে পারছে না। মেয়েটির কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে অভিযুক্ত রতনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


মন্তব্য