kalerkantho


নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী-অগ্রণী সেচ প্রকল্প

জলের সঙ্গে বাস ভোগান্তি সীমাহীন

এস এম শাহাদাত, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জলের সঙ্গে বাস ভোগান্তি সীমাহীন

নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী-অগ্রণী সেচ প্রকল্পের রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল এলাকা এখন এরকমই জলাবদ্ধ। ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ একসময় কৃষিনির্ভর এলাকা ছিল। তখন কৃষিকাজের সুবিধার জন্য এ এলাকা নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী-অগ্রণী সেচ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়।

তবে প্রকল্পটি সেচের হলেও বর্তমানে এখানে জমিতে সেচের কোনো ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়ভাবে হাজার হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগে এ প্রকল্পের খালগুলো বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে আকাশে মেঘ দেখলেই দুর্ভোগের ভয়ে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৮৪ সালে ৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই হাজার ৩০০ হেক্টর জমি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী-অগ্রণী সেচ প্রকল্প-১ এবং পরে ১৯৯৩ সালে ১০১ কোটি টাকা ব্যয়ে শীতলক্ষ্যার পূর্বপাড়ের প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমি ঘিরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর কয়েক বছরের মধ্যেই এ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ সময় এখানকার জনবসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জনদুর্ভোগও। এবারের দুর্ভোগ যেন আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

বর্তমানে সেচ প্রকল্প দুটিতে কৃষিজমিতে সেচের তেমন ব্যবস্থা নেই। এসব কৃষিজমিতে ঘরবাড়ি ও শিল্প-কারখানাও গড়ে তোলা হয়েছে।

এখন প্রকল্প দুটিতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার। অগ্রণী সেচ প্রকল্পের যাত্রামুড়া পাম্প হাউস থেকে বরপা ব্রিজ হয়ে একটি মূল খাল সেচ প্রকল্পের বানিয়াদী এলাকা দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, খালটি দখল করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও প্রভাবশালীরা বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া খালের অনেক স্থানে বালু দিয়ে ভরাট করে ইমারত নির্মাণ করা হয়েছে। সেচ প্রকল্প দুটির দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের উেকাচের বিনিময়ে তারা খালটি দখলে নিয়ে নিয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ফলে খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু অভিযুক্ত কর্মকর্তারা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ ব্যাপারে সেচ প্রকল্প দুটির কার্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের অফিসগুলো অধিকাংশ সময়ই থাকে তালাবদ্ধ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সেচ প্রকল্পের মাসাব, বরপা বাগানবাড়ি, শান্তিনগর, সুতালড়া, আড়িয়াবো, তেতলাব, কর্ণগোপ, মৈকুলী, ভায়েলা, পাঁচাইখা, মোগড়াকুল, পবনকুল, বরাব, খাদুন, যাত্রামুড়া, গোলাকান্দাইল, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, ৫ নং ক্যানেল, কাহিনা, রূপসী, গন্ধর্বপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতারা খালগুলো ভরাট করে মার্কেট, ঘরবাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এ কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্জ্য সরাসরি খালগুলোতে ফেলা হচ্ছে। এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে এসব অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করা প্রয়োজন বলে মনে করে এলাকাবাসী।

বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটে কোমর পর্যন্ত পানি জমে যায়। এ সময় এলাকার শিক্ষার্থীদের অতি কষ্টে স্কুলে যেতে হয়। পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয় অনেকে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি বলেন, সরকারিভাবে খালগুলো খননের জন্য যে বরাদ্দ আসে, তা ঠিকমতো কাজে লাগালে হয়তো এ সমস্যা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যেত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বরাদ্দকৃত টাকা স্থানীয় প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়ে যান।

এখলাছ উদ্দিন ভুইয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. শহিদুল্লাহ ভুইয়া বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট ডুবে যায়। পানির কারণে রাস্তা ভেঙে গেছে অনেক জায়গায়ই। যে কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারে না। তা ছাড়া বৃষ্টির দিনে স্কুলে উপস্থিতি একবারে কমে যায়। এভাবে আর কত দিন চলবে?

নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী-অগ্রণী সেচ প্রকল্প যাত্রামুড়া পাম্প হাউসের উপসহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) রামপ্রসাদ বাফার বলেন, দুই দিন বৃষ্টির কারণে পানি একটু বেড়ে গেছে। দ্রুত তা নিষ্কাশনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফাতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, অগ্রণী সেচ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


মন্তব্য