kalerkantho


নেত্রকোনায় কিশোরী ধর্ষণ ও আত্মহনন

দুই কর্তার অপসারণচায় পান্নার পরিবার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দুই কর্তার অপসারণচায় পান্নার পরিবার

নেত্রকোনায় কিশোরী পান্না আক্তারকে (১৪) গণধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।

অথচ ঘটনার পর থানার ওসি এবং হাসপাতালের আরএমও ধর্ষণের কথা অস্বীকার করেছেন। এ কারণে ভুক্তভোগী পরিবার এ দুই কর্মকর্তার অপসারণ চেয়েছে।

থানা পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার গভীর রাতে নেত্রকোনা সদর সার্কেলের এএসপি ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে দুর্গাপুর পৌর এলাকার আকুঞ্জিপাড়া থেকে মামুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামুন তাঁর ভগ্নিপতি আসাদ মিয়ার ভাড়া বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। আর অপু সরকারকে সোমবার রাতে নেত্রকোনা শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে আটক করে পুলিশ। অপু জেলা ছাত্রলীগের কৃষিবিষয়ক উপসম্পাদক। তিনি অটোরিকশাযোগে মোহনগঞ্জ যাচ্ছিলেন। তিনজনের মধ্যে সুলতান মিয়াকে গতকাল পর্যন্ত ধরতে পারেনি পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা রেল সড়কসংলগ্ন তাজুলের পরিত্যক্ত ঘর থেকে পান্না আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নেত্রকোনা মডেল থানার এসআই মোস্তাক আহাম্মেদ দুপুর ২টায় লাশের ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পান্নার বাবা রিকশাচালক লাল মিয়া মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে এমন অভিযোগ করেন। কিন্তু পুলিশ ওই দিন একটি অপমৃত্যু মামলা নথিভুক্ত করে এবং তাঁকে থানা থেকে চলে যেতে বলে। এরপর স্থানীয় ও ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের চাপে রবিবার রাতে ধর্ষণ মামলা নেয়। এ ঘটনা নিয়ে গত সোমবার কালের কণ্ঠ ‘ঘটনা ছাইচাপা দিতে চেয়েছিলেন ওসি আরএমও’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করে।

মেয়ের মা আলপনা বেগম গতকাল বুধবার জানান, ঘটনার পর ওসি এবং আরএমও ধর্ষণের কথা অস্বীকার করেছেন। অথচ এখন আসামিরা অভিযোগ স্বীকার করেছে। এ দুজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। ’ নেত্রকোনা স্বাবলম্বী উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপক কোহিনুর বেগম বলেন, ‘এর আগে ধর্ষণের কোনো আলামত পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে আরএমও আমাকে বলেন, এমন কোনো আলমত পাননি। ’ নেত্রকোনা আধুনিক হাসপাতালের আরএমও মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এখন তো কত কথাই শোনা যাবে। বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জন এলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। ’

নেত্রকোনা সদর সার্কেলের এএসপি ছানোয়ার হোসেন জানান, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝির নির্দেশনায় দুই আসামিকে ধরা হয়েছে। বুধবার বিকেলে তারা উভয়ে যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে। জবানবন্দি নেওয়ার জন্য তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে।

নেত্রকোনার এসপি জয়দেব কুমার চৌধুরী কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘ওসি নতুন এসেছেন। উনি ভুল করেছেন। এটা স্বীকারও করেছেন। দেখা যাক কী হয়?’


মন্তব্য