kalerkantho


সাঁওতালদের সাত দফা দাবি

গাইবান্ধায় কর্মসূচিতে পুলিশের বাগড়া

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



গাইবান্ধায় কর্মসূচিতে পুলিশের বাগড়া

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাত দফা দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করে সাঁওতালদের কয়েকটি সংগঠন। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পুলিশের গুলিতে তিনজন সাঁওতাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবিতে গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ৬ নভেম্বর ওই তিনজন নিহত হওয়ার পর ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির ডাক দেয় সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও জনউদ্যোগ।

এদিকে গতকাল সকালে সাঁওতাল ও স্থানীয় বাঙালিরা যখন বাসে করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসার জন্য গোবিন্দগঞ্জ বাগদাফার্ম মোড়ে জমায়েত হচ্ছিল তখন পুলিশ তাদের বাধা দেয় বলে অভিযোগ করা হয়। বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহসভাপতি ডা. ফিলিমন বাসকে বলেন, সাত-আট শ সাঁওতাল ও বাঙালিদের পুলিশ ফেরত যেতে বাধ্য করেছে।

তবে পুলিশি বাধার মুখেও তিন শতাধিক সাঁওতাল ও বাঙালি গাইবান্ধা শহরের রেলগেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে যায়। এ সময় প্রধান ফটকের কাছে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে সেখানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বাবু, জনউদ্যোগের সদস্যসচিব প্রবীর চক্রবর্তী, জেলা সিপিবির সহ-সম্পাদক মুরাদুজ্জামান রব্বানী, জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি প্রতিভা সরকার ববিতা প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে পুলিশের এ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনজন নিরীহ সাঁওতাল হত্যার বিচার দাবি কিংবা পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত চাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। আর সে লক্ষ্যেই তারা সাত দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছে। বক্তারা অবিলন্বে তিনজন সাঁওতাল হত্যাকাণ্ডের আসামি গোবিন্দগঞ্জের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদ বুলবুলসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

পরে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল সমাবেশস্থলে এলে তাঁর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির সহসভাপতি ফিলিমন বাসকে ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা দাবিগুলো বিবেচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠনো হবে।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, ঘটনার পর ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও তিনজন সাঁওতাল হত্যাকাণ্ডের বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এ বিষয়ে আদিবাসীরা ক্ষুব্ধ, হতাশ। তা ছাড়া রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্মের জন্য গৃহীত সাঁওতাল ও বাঙালিদের কাছ থেকে যে শর্তের ভিত্তিতে এক হাজা ৮০০ একর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করেছিল, সেই শর্ত মিল কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই ভঙ্গ করেছে। ওই শর্তের ভিত্তিতেই এখন বাগদাফার্ম এলাকার সম্পত্তির মালিক আদিবাসী সাঁওতাল ও বাঙালিরা।


মন্তব্য