kalerkantho


ইউএনওকে ঘুষখোর বলে মুরাদনগরে সমন্বয় সভা বর্জন

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ঘুষখোর বলে তাঁর নেতৃত্বে সভা বর্জন করেন জনপ্রতিনিধিরা।

জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, ইউএনও রাসেলুল কাদের যোগদানের পর থেকে ঘুষ ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পাদন করে বিল এবং চেক নেওয়ার সময় তাঁকে ১০ শতাংশ হারে ঘুষ দিতে হয়। এতে অতিষ্ঠ হয়ে গত মঙ্গলবার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সংবাদ সম্মেলন করেন। এরপর গতকাল সভা বর্জনে বিগত দিনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা ও আইন-শৃঙ্খলার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

টনকি ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, ‘ইউএনও চিহ্নিত ঘুষখোর। আমরা তাঁর আহ্বানে কোনো সভা-সেমিনারে আর যোগদান করব না। অবিলম্বে তাঁকে প্রত্যাহার না করা হলে আমরা আন্দোলনে নামব। ’

নবীপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, ‘ফেসবুকে ইউএনও অশালীন মন্তব্য করেছেন। জনপ্রতিনিধিদের কটূক্তি, অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে আমরা সবাই মাসিক সমন্বয় সভা বর্জন করেছি।

নবীপুর পূর্ব ইউপির চেয়ারম্যান কাজী আবুল খায়ের বলেন, ‘এ ধরনের দুর্নীতিবাজ ইউএনও আমরা চাই না। ’

মুরাদনগর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সমন্বয় সভা হওয়ার কথা ছিল। সভাস্থলে গিয়ে দেখি, কোনো চেয়ারম্যান-মেম্বার সভায় আসেননি। তাই কোরাম সংকটের কারণে এ সভা স্থগিত করা হয়েছে। ’

অভিযুক্ত ইউএনও রাসেলুল কাদের বলেন, ‘কী কারণে জনপ্রতিনিধিরা সমন্বয় সভায় আসেননি, সেটা আমার জানা নেই। কোরাম সংকটের কারণে সভা স্থগিত করেছি। ’

মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম খসরু বলেন, ‘ইউএনও রাসেলুল কাদেরের অনিয়ম-দুর্নীতির বেশ কিছু তথ্য চেয়ারম্যান-মেম্বাররা আমাকে জানিয়েছেন। উপজেলার সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিরা সমন্বয় সভা বর্জন করায় আমিও অংশ নিইনি। ইউএনওর এসব কর্মকাণ্ড তদন্ত করে তাঁকে প্রত্যাহারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমি কথা বলব। ’


মন্তব্য