kalerkantho


দিনাজপুরের পাঁচ মেধাবী

ঢাবি জয় করেও অনিশ্চিত যাত্রা

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



ঢাবি জয় করেও অনিশ্চিত যাত্রা

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ-কাহারোল পাশাপাশি দুটি উপজেলা। এ দুই উপজেলা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ঠিক কতজন ভর্তির সুযোগ পেয়েছে তার পরিসংখ্যান জানা নেই।

তবে হতদরিদ্র পরিবারগুলোর সন্তানরা যে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার দৌড়ে প্রাণপণ লড়ছে তা বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করা যায়। কারণ এবার এ দুই উপজেলা থেকে ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে হতদরিদ্র পরিবারের পাঁচ শিক্ষার্থী। তাদের সফলতায় এলাকার মানুষের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইলেও এই পাঁচটি পরিবারে যেন আকাশ ভেঙে পড়ার জো হয়েছে। সন্তানদের তারা কিভাবে ভর্তি করাবে, কোথায় পাবে এত টাকা তা নিয়েই তারা চিন্তায় বিভোর। হারিয়ে গেছে তাদের রাতের ঘুমও। তারা এখন তাকিয়ে আছেন হৃদয়বান বিত্তশালী কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা সরকারি সাহায্য সহযোগিতার দিকে।

যে পাঁচজন মেধাবী শিক্ষার্থী ঢাবিতে ভর্তির চান্স পেয়েছে তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী (১৮) একজন। কাহারোল উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা পিতৃহীন মোহাম্মদ আলী। মানুষের বাসায় দিনমজুরের কাজ করে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সে।

মোহাম্মদ আলী ১ নম্বর ডাবোর ইউনিয়নে সরকারি ডহচী মধুহারী আশ্রয়ণকেন্দ্রের অসহায় দিনমজুর মোছা. মসলিমা বেগমের ছেলে। উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে সে ‘খ’ ইউনিটে মেধাতালিকায় ৬৬৮তম স্থান দখল করে। মোহাম্মদ আলী জানায়, ২৪ অক্টোবর ভর্তির সময় শেষ। ভর্তি হতে অনেক টাকা লাগবে। মা-ছেলে মিলে দিনমজুরের কাজ করে যে টাকা পায় তা দিয়ে তাদের সংসার চলে। তাই স্বপ্ন পূরণে বিত্তবান ও হৃদয়বানদের সহযোগিতা চেয়েছে মোহাম্মদ আলী। তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর-০১৭৭৩৪৬১৭৩৮।

রুনা আক্তার (১৮) বীরগঞ্জের ঝাড়বাড়ী প্রসাদপাড়া বাজার এলাকার নুর ইসলাম ও রহিতন বেগমের সন্তান। এ বছর ঢাবির ‘খ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধাতালিকায় সে ১৭৫৪তম হয়েছে। সে জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে শিক্ষক ও মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করেছে। এবার সে ঢাবিতে চান্স পেলেও টাকার জন্য তার ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাকে সহায়তা করতে চাইলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ৭০১৭০১৫৭৪০৯৪৮-তে টাকা পাঠাতে পারেন।

বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের লেবু পাল ও শ্রীমতী পালের ছেলে উদ্ভব পাল (১৮)। এসএসসি ও এইচএসসি কোনোটিতেই ওর জিপিএ ৫ নেই। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে তাকে পড়তেই হবে। এটা স্বপ্ন নয় বিশ্বাস। এমনটাই বলছিলেন উদ্ভব পাল। অবশেষে উদ্ভব ‘খ’ ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে ঢাবির মেধাতালিকায় ক্রমানুসারে ২১১৩তম স্থান দখল করেছে। তার ভাষ্য, ‘আমার বাবা পেশায় একজন মৃিশল্পী। সোজা কথায় আমরা যাকে বলি কুমার। কিছুুদিন পরেই আমাকে ঢাবিতে ভর্তি হতে হবে কিন্তু এখন পর্যন্ত টাকা জোগার হয়নি। ’ উদ্ভবের কথা শেষ না হতেই উদ্ভবের মা শ্রীমতী বলেন, ‘এবারের পুজোয় আমার তিন ছেলের একজনকেও একটা নতুন কাপড় তো দূরে থাক ওদের হাতে একটা টাকা পর্যন্ত দিতে পারিনি। এখন খাওয়া-দাওয়া বাদ দিয়ে এই অভাবের সংসারে যা আয় হচ্ছে তার সবটুকুই সঞ্চয় করা হচ্ছে বড় ছেলের ভর্তির ফিসের জন্য। ’ উদ্ভব বলেন, ‘আমার লেখাপড়া চালিয়ে নিতে আমাকে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন আমার বাবা। যদি কোনো সহায়তা না পাওয়া যায় তাহলে আমার বাবাই সব ব্যবস্থা করবেন, ভগবান যদি সহায় থাকেন। ’ সমাজের কোনো দাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি তাকে সহযোগিতা করতে চান তাহলে ০১৭৮৬৯৫৯৬১৫ নম্বরে কথা বলতে পারেন।

বীরগঞ্জের আরেক মেধাবী মুখ মো. সুমন ইসলাম (১৮)।   সে পাল্টাপুর ইউনিয়নের সাদুল্ল্যাহ পাড়ার মো. বজলুর রহমান ও রহেদা বেগমের ছেলে। দরজায় গিয়ে ডাক দিতেই বেরিয়ে এলো সুমন। তাদের ধারণা কেউ হয়তো সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসেছেন। পরিচয় পেতেই অবলীলায় বলতে শুরু করল তার জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার কাহিনি। মা রহেদা বেগম চাতাল শ্রমিক। মাকে সহযোগিতায় ও নিজের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য মাঝেমধ্যে স্কুল-কলেজে না গিয়ে তাকে শ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে। সে এবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধাতালিকায় ক্রমানুসারে ‘খ’ ইউনিটে ২২৪৩তম স্থান নিয়ে ঢাবিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু যেখানে সংসার চলা দায় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চিন্তা তাদের কাছে আকাশকুসুম কল্পনা ছাড়া আর কী। তারা এখন চেয়ে আছে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দিকে। আর কারো কোনো সহযোগিতা না পেলে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নটা অধরাই থেকে যাবে। তাকে সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৭৮৫৩৫১৯০৯ নম্বরে সরাসরি কথা বলতে পারেন।

একই ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দ গ্রামের বাসিন্দা মো. হাছিনুর রহমান (১৮)। সে ভ্যানচালক সমাজ উদ্দীন ও গৃহিণী হাছিনা বেগমের ছেলে। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে মেধাতালিকায় ক্রমানুসারে ‘খ’ ইউনিট থেকে ৭৪৮তম স্থান অর্জন করে ঢাবিতে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘খ’ ইউনিটে ৬৬৮তম স্থান অধিকার করেছে। বাবা অসুস্থ হওয়ার কারণে এখন ভ্যান চালাতে পারেন না। তাই হাছিনুর রহমান মানুষের বাড়িতে কাজ করে আর ওর মা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শ্রম দিয়ে কোনো মতে পরিবারটিকে টিকিয়ে রেখেছেন। হাছিনুর রহমান জানায়, তার সহপাঠীদের মধ্যে অনেকে তাকে লেখাপড়ার জন্য বই-খাতা কিনে দিয়েছিল। স্কুল ও কলেজ তার কাছ থেকে কোনো বেতন বা ফি নেয়নি। এ ছাড়াও সামিউল ও মমিনুল নামের দুই শিক্ষক তাকে ফ্রি পড়িয়েছেন। এখন কিভাবে কী করবে সে বুঝতে পারছে না। হাছিনুর রহমানকে সহযোগিতার জন্য সরাসরি ০১৭৩৫৫৯৪৭৫৩ নম্বরে কথা বলতে পারেন।


মন্তব্য