kalerkantho


সাতক্ষীরায় হামলা ভাঙচুর লুটপাট

অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জেল থেকে বের হওয়ার দুই ঘণ্টা পার না হতেই প্রতিপক্ষের পাঁচটি দোকানঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার ঘটনায় একই পরিবারের চারজন গুরুতর জখম হয়েছে।

গত সোমবার রাতে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল কালীবাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাহীনুর সরদার জানান, ২০০৯ সালের ২০ আগস্ট চম্পাফুল গ্রামের হিমনাথ মণ্ডলের কাছ থেকে তাঁরা তিন ভাই সোয়া ১০ শতক জমি কেনেন। দলিলে ওই জমির শনাক্তকারী হিসেবে চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন ও সাক্ষী হিসেবে হিমনাথ মণ্ডলের ছেলে পরিতোষ মণ্ডল স্বাক্ষর করেন। যে জমিতে পাঁচটি দোকানঘর রয়েছে। হিমনাথ মণ্ডলের মৃত্যুর পর ছেলে পরিতোষ মণ্ডলের কাছ থেকে গত ১ মার্চ চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইনের ছেলে আশীকুল গাইন, আরিফুল গাইন, ইউপি সদস্য আব্দুল কাইয়ুম ও গ্রাম্য ডাক্তার আশোক রায় একই দাগে দুই শতক জমি কেনেন। বণ্টননামা না থাকায় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন ও ইউপি সদস্য আব্দুল কাইয়ুম তাঁদের দোকানঘর থাকা দুই শতক জমি দখল করার চেষ্টা করছিলেন।

শাহীনুর জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ১০ টাকা চাল বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান মোজম্মেল হক, ইউপি সদস্য আব্দুল কাইয়ুমসহ আটজন জনপ্রতিনিধি দুদকের করা মামলায় গত ২৬ অক্টোবর জেলহাজতে যান। গত সোমবার বিকেলে জেল থেকে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে চেয়ারম্যান মোজাম্মেলের লোকজন তাঁর ভাইয়ের ছেলে তানভির হোসেনের দোকানে হামলা-লুটপাট চালায়। এ সময় বাধা দিলে তানভিরকে পিটিয়ে জখম করা হয়। তবে ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন হামলা, ভাঙচুর, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলামসহ কয়েকজন স্থানীয় এক হিন্দুর জমি দখল করে রেখেছিল। সোমবার স্থানীয় লোকজন তা অপসারণ করে জায়গা খালি করে দিয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি সুবীর দত্ত জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য