kalerkantho


ইবি সমাবর্তন

প্যান্ডেল খরচ ৩৩ লাখ টাকা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্যান্ডেল খরচ ৩৩ লাখ টাকা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ৭ জানুয়ারি। এতে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সমাবর্তন উপলক্ষে ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ ও প্যান্ডেল। ছবি : কালের কণ্ঠ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চতুর্থ সমাবর্তনে প্যান্ডেল ও ডেকোরেশনের কাজ ভুয়া কম্পানিকে দিয়ে বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। কম্পানিটির বিরুদ্ধে ইবি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে সর্বনিম্ন দরদাতা কাজ না করায় এখন সর্বোচ্চ দরদাতাকে দিয়ে কাজ করাতে বাধ্য হচ্ছে প্যান্ডেল কমিটি।

ইবি সূত্র জানায়, আগামী ৭ জানুয়ারি চতুর্থ সমাবর্তন উপলক্ষে প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুরু করেছে প্যান্ডেল উপকমিটি। এ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। গত ২৮ নভেম্বর দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। এই সময়ের মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ঢাকার ‘কিউ কমিউনিকেশন’। তারা ২৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টাকার দর জমা দেয়। এরপর রাজশাহীর ‘ফ্রেন্ডস ডেকোরেশন’ ৩০ লাখ ৪০০ টাকার দরপত্র জমা দেয়। সর্বোচ্চ দর জমা দিয়েছে খুলনার ‘সুন্দরবন ডেকোরেশন’। তারা ৩৩ লাখ ছয় হাজার টাকায় কাজ করতে ইচ্ছুক। দরপত্র উন্মুক্ত হওয়ার পর মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতা কিউ কমিউনিকেশনকে কাজ দেয়। গত ১০ ডিসেম্বর তাকে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওয়ার্ক অর্ডারে স্বাক্ষর করেনি কিউ কমিউনিকেশন। এ সময় তাদের দেওয়া মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এতে বিপাকে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে তাদের ঠিকানায় (অফিস) যান সমাবর্তন প্যান্ডেল কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. জাকারিয়া রহমান, কমিটির সদস্যসচিব প্রধান প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল ও অধ্যাপক ড. এয়াকুব আলী। তবে অফিস এবং কম্পানির অবস্থা সন্তোষজনক পাননি তাঁরা। পরে ২৫ ডিসেম্বর কিউ কমিউনিকেশনের নামে ইবি থানায় একটি জিডি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ বলেন, ‘প্যান্ডেল কমিটি ওই কম্পানির বিরুদ্ধে একটি জিডি করার সুপারিশ করে। তাদের সুপারিশ সংযুক্ত করে আমরা থানায় পাঠিয়েছি।’

সমাবর্তন প্যান্ডেল কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. এয়াকুব আলী বলেন, ‘কাজ দেওয়ার পর আমরা সরজমিনে দেখলাম, তাদের কাজ করার মতো সরঞ্জাম নেই।’

এদিকে ১৯ ডিসেম্বর রাজশাহীর ফ্রেন্ডস ডেকোরেশনকে কাজ করার আদেশ দিলে তারা কাজ করবে না বলে জানায় কমিটিকে। সর্বশেষ ২৩ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ দরদাতা সুন্দরবন ডেকোরেশনকে কাজ দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে সর্বনিম্ন দরদাতার থেকে তিন লাখ ৯৯ হাজার ৪০০ টাকা বেশি দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে দিয়ে কাজ করাতে বাধ্য হচ্ছে প্রশাসন। ৩৩ লাখ ছয় হাজার টাকায় প্যান্ডেল, স্টেপ, সোফা, চেয়ার, কার্পেটসহ সব কাজ করবে সুন্দরবন ডেকোরেশন। এ ছাড়া ৪৫০টি লাইট, ২২০টি ফ্যান এবং ৪০টি স্ট্যান্ড ফ্যানসহ ডেকোরেশনের যাবতীয় ব্যবস্থা করবে। এই কাজে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাজেট ছিল ৩৭ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, আগামী ৭ জানুয়ারি ইবির চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ এবং সমাবর্তন আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।


মন্তব্য