kalerkantho


৫৭ ধারায় ‘ফাঁসলেন’ দুই সাংবাদিক

নারায়ণগঞ্জে বাদীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নারায়ণঞ্জের অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘নিউজ নারায়ণগঞ্জ২৪ডটনেট’-এর সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের বিরুদ্ধে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে (৫৭ ধারায়) মামলা করা হয়েছে। মামলাটি গত রবিবার পুলিশ নথিভুক্ত করলেও বিষয়টি জানাজানি হয় গতকাল সোমবার।

মামলাটি করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা কুড়েরপাড় এলাকার মো. ফালান মিয়ার ছেলে সায়েম আহমেদ। সায়েমের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধন করা একটি বিদ্যুেকন্দ্রের কাজ আটকে দেওয়ার অভিযোগে ওই বছরের ১০ মে সদর মডেল থানায় জিডি হয়েছিল। এ ছাড়া সিনহা পিপলস এনার্জির মালিকানাধীন ওই কেন্দ্রের কর্মকর্তারা পুলিশকে জানিয়েছিলেন, সায়েম ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কম দামে জমি বায়না করে কয়েকগুণ দামে সিনহা পিপলস এনার্জির নামে রেজিস্ট্রি করে দেন।

সায়েম মামলার আরজিতে নিজেকে এনএন নিটিং ও এনএন কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী, বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশন, ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ চেম্বার কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য দাবি করেছেন। তবে আদালতে দাখিল করা ইয়ার্ন মার্চেন্টের সদস্য প্রমাণপত্রের নথিতে দেখা গেছে, ২০১৫ সালের ৩০ জুন এর মেয়াদ শেষ হয়। চেম্বারের নথিতে দেখা যায়, ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর সদস্য বলবৎ ছিল।

মামলায় বিবাদীরা হলেন নিউজ নারায়ণগঞ্জ২৪ডটনেটের স্বত্বাধিকারী ও এডিটর ইন চিফ শাহজাহান শামীম ও নির্বাহী সম্পাদক তানভীর হোসেন। শামীম একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সরকারি অনুদানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘বক্তাবলীর কান্না’ নির্মাণ করছেন।

মামলায় বাদী সায়েম আহমেদ বলেন, “গত ২৬ ডিসেম্বর নিউজ নারায়ণগঞ্জ২৪ডটনেটে ‘আলীরটেক হাইব্রিড আওয়ামী লীগ নেতাদের দাপটে কোণঠাসা ত্যাগী নেতাকর্মীরা’ শিরোনামে তাঁর ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে বলা হয়, ‘নৌকা প্রতীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন মতিউর রহমান মতি। অন্যদিকে ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সায়েম আহমেদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা থাকলেও তিনি ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এ ছাড়া সায়েম আহমেদকে মানুষ চিনে ভূমিদস্যু হিসেবে।’ সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। এতে আমার পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।”

শাহজাহান শামীম বলেন, ‘আমাদের সংবাদটি তথ্যনির্ভর ছিল। সায়েমের বক্তব্য নিউজের সঙ্গে যুক্ত করা আছে। এ ছাড়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধেও প্রচুর অভিযোগ আছে। আশা করি, প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনার উদঘাটন হবে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাচ্ছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সায়েমের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় গত ২৪ এপ্রিল চাঁদাবাজি, মারামারি, হত্যার উদ্দেশ্যে গুমসহ বিভিন্ন অভিযোগে একটি মামলা হয়। নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় ২০১৩ সালের ২০ জুন আরেকটি মামলা হয় যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছিল। মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা, মারধর, চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০১৫ সালের ২৯ জুন সায়েমের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সায়েমের করা মামলাটি রেকর্ড করার পর তদন্তকাজ শুরু হয়েছে।’ ২০১৫ সালে বিদ্যুেকন্দ্রের কাজ আটকে দেওয়ার ১০ মে জিডির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুেকন্দ্রের সঙ্গে টাকা নিয়ে একটি সমস্যা সৃষ্টি হয়। পরে সেটা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়।’ সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় সায়েমের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।’


মন্তব্য