kalerkantho


কেরানীগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতাকে ডাকাত সাজিয়ে মারধর আটক

পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন রুবেলকে ডাকাত সাজিয়ে মারধর ও আটক করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে এ ঘটনার পর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের হাঙ্গামা হয়। এ ঘটনা তদন্তে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে গত রবিবার একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. সাইদুর রহমানকে প্রধান করে তিনজনের কমিটির সদস্যরা হলেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) নাসিম হোসেন ও ডিবির (ঢাকা জেলা দক্ষিণ) ওসি মোহাম্মদ শাহজামান।

তদন্ত কমিটির প্রধান সাইদুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।’

পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাক্তা ইউনিয়নের আরশীনগরে সড়কের ওপর চেকপোস্ট বসিয়ে সাদা পোশাকে গাড়ি তল্লাশি করছিলেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই শফিউল আজম। চেকপোস্টে তাঁর সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য ছিলেন না। ছিলেন একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও একজন সোর্স। এ পথ দিয়ে দুটি মটরসাইকেলযোগে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন রুবেলসহ ছয়জন যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে কাগজপত্র দেখতে চান এসআই। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা রুবেল ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক বলে পরিচয় দেন। পরিচয় পর্বের পর দুজনের তর্ক হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাচালক (নাম জানা যায়নি) রুবেলকে ‘আওয়ামী লীগের নাম ভাঙস’ বলে চড় মারেন। তখন রুবেল পাল্টা চড় মারেন। তখন এসআই এসে রুবেলের চোখ বেঁধে ‘ডাকাত’ বলে স্থানীয়দের হাতে তুলে দেন। রাতের অন্ধকারে চোখ বাঁধা থাকায় রুবেলকে না চিনে এলাকাবাসী এলোপাতাড়ি মারধর করে। এসআইও তাঁকে কিল-ঘুষি মারেন। এমন দ্বিমুখী নির্যাতনে রুবেলের বাঁ পায়ের মাংসপেশি মারাত্মক জখম হয়। অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। এ অবস্থায় তাঁকে হাতকড়া লাগিয়ে পাশের আটিবাজারে গত ২১ ডিসেম্বর ডাকাতি হওয়া নিলয় জুয়েলার্সের সামনে নিয়ে ‘ডাকাত ধরেছি’ বলে প্রচার করেন এসআই।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে রুবেল ও তাঁদের ব্যবহূত মোটরসাইকেলসহ থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় আনার পর হাতকড়া পরানো অবস্থায় রুবেলকে বেদম মারধর করেন এসআই। এদিকে রুবেলকে পুলিশ আটক করেছে এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই শতাধিক নেতাকর্মী থানা ঘেরাও করে। একপর্যায়ে তারা থানার প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে রুবেলকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ সময় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী এসআই শফিউল আজমের কলার চেপে ধরে এবং কিল-ঘুষি মারে। পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা একত্র হয়ে লাঠিপেটা করে নেতাকর্মীদের থানা থেকে বের করে দেয়। বাইরে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে তারা নানা স্লোগান দেয়। আশপাশের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে এক প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ এসে থানায় অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম। পরে দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। দুই পক্ষের মধ্যে আপসরফা হলে ভোর ৪টার দিকে রুবেলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মডেল থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুব হাসান বিপ্লব বলেন, ‘রুবেলকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসহ্য ব্যথা। সুস্থ হতে কয়েক মাস সময় লাগবে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। অভিযুক্ত এসআইয়ের উপযুক্ত বিচার চাই।’

এসআই শফিউল আজম বলেন, ‘শুক্রবার রাতে আরশীনগর রাস্তায় একটি মোটরসাইকেল থামালে পেছনে বসা রুবেল উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় তাঁর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি ঘটে। আমরা ডাকাত বলে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ইট-লাঠিসোঁটা নিয়ে রুবেলের ওপর হামলা চালায়। পরে আমি তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দিই।’

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।’


মন্তব্য