kalerkantho


দুই বছর ধরে বিল বন্ধ

টঙ্গী বিটিসিএল

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ টেলি কমিউনিকেশন্স কম্পানির টঙ্গী বিভাগে দুই বছর ধরে টেলিফোন বিল দেওয়া বন্ধ রয়েছে। গ্রাহকরা নিয়মিত টেলিফোন বিল পরিশোধের সুযোগ না পেয়ে ও যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে আশানুরূপ সেবা না পেয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

বিটিসিএল টঙ্গী বিভাগের আওতাধীন এলাকাগুলোতে অত্যাধুনিক টেলিযোগাযোগ সুবিধাসহ দ্রুত টেলিফোন ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের উদ্যোগ নিলেও গ্রাহকরা এই সেবার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না। দুই বছরে টঙ্গীর প্রায় সাত হাজার গ্রাহক। এর মধ্যে তিন হাজার গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।

টঙ্গীর অভ্যন্তরীণ ট্যাংক ও এসটিডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে টেলিফোন বিল প্রদানের দায়িত্ব বেসরকারি কম্পানি ‘ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস লিমিটেড’কে দেওয়া হয়। এরপর সেই কম্পানি বিল প্রদানের কার্যক্রম আর শুরু করেনি।

এ ব্যাপারে টঙ্গী বিটিসিএলের বিভাগীয় প্রকৌশলী ফজলে রাব্বি বেশ কয়েকবার চিঠি পাঠালেও কোনো উত্তর আসেনি। ২০১৭ সালের আগস্টে দ্রুত বকেয়া টেলিফোন বিল পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পরিশোধের একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

টঙ্গীর গ্রাহকরা প্রতিদিন বকেয়া বিল পাওয়ার জন্য টঙ্গী কার্যালয়ে যোগাযোগ করলেও কোনো সদুত্তর পাচ্ছে না। টঙ্গী কার্যালয়ে কর্মরত ১০ জন লাইনম্যান ও অন্য কর্মচারী ইতিপূর্বে টেলিফোন বিল প্রদানে কর্মরত ছিলেন। এখন তাঁদের হাতে তেমন কোনো কাজ নেই।

গতকাল মঙ্গলবার টঙ্গী কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, লাইনম্যানসহ অন্য কর্মচারীরা প্রধান গেটে সিঁড়ির ওপর বসে খোশগল্পে সময় কাটাচ্ছেন। উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কক্ষ ছাড়া বাকিগুলো বন্ধ। গ্রাহকদের অভিযোগ, টেলিফোন লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে কর্মচারীরা উদাসীনভাব প্রদর্শন করেন। তাঁদের কাছে অভিযোগ এলে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তাঁরা টেলিফোনের তার পাল্টানোর কথা বলেন। নতুন তার কেনার পরামর্শ দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে তার কেনার জন্য পথ দেখান। কর্মচারীদের উদাসীনতার কারণে টেলিফোন লাইনের পাশাপাশি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়ার প্রতি গ্রাহকরা তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তাই বেসরকারি কম্পানিগুলোর প্রতি গ্রাহকরা ঝুঁকে পড়ছে।

চেরাগআলী মার্কেট এলাকার ইউনাইটেড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র হামিম তাশরিফ নাইম বলেন, ‘বিটিসিএলের লাইনের চেয়ে বেসরকারি লাইনে বেশি সেবা পাওয়া যায়। তাই বেসরকারি ইন্টারনেট লাইন নিয়েছি।’

আউচপাড়া এলাকায় উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র রাফসান আহম্মেদ জিহাদ বলেন, ‘বিটিসিএল লাইনের চেয়ে বেসরকারি ইন্টারনেট লাইন সুবিধাজনক। সমস্যা দেখা দিলে তারা দ্রুত ছুটে আসে।’

আরিচপুরের সরকারি কর্মকর্তা রফিক আহম্মেদ বলেন, ‘বিটিসিএলের গ্রাহকসেবা আরো উন্নত ও আকর্ষণীয় করা প্রয়োজন।’

টেলিফোন, ফ্যাক্স ও কম্পিউটার ব্যবসায়ী শামসুল আলম জানান, একসময় টিঅ্যান্ডটি টেলিফোন লাইন নিতে ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ হতো। আবেদন করে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতো। এখন মাত্র দুই হাজার ১৫০ টাকায় নতুন সংযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু কেউ নিতে চায় না। বরং পুরনো লাইন বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। টিঅ্যান্ডটি ল্যান্ড ফোন থেকে কোনো মোবাইলে কল করলে প্রায় এক টাকা মিনিটে খরচ হয়। অথচ বেসরকারি কম্পানির মোবাইল থেকে মোবাইলে কল করলে ২৫-৩০ পয়সা খরচ হয়।

বিটিসিএল টঙ্গী কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ

জানান, টঙ্গী বিভাগীয় অঞ্চলে দুই বছর ধরে টেলিফোন বিল বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন গ্রাহকরা যোগাযোগ করে। তবে কবে থেকে গ্রাহকরা বিল পাবে, তার নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। টেলিফোন সেবা ও বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আর বেশি কিছু ভাই বলতে পারব না।’


মন্তব্য