kalerkantho


শেরপুরে ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা

শেরপুর প্রতিনিধি   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘চে..লে..লে..লে..ঢুই, ‘চে..লে..লে..লে..ঢুই. ঢুই’-ধ্বনিতে হাঁক ছেড়ে খোঁজা হয় প্রতিদ্বন্দ্বী। কেউ একজন এগিয়ে এলে তার সঙ্গে চলে বীরের ‘গাঙ্গী’ খেলা। তিন মিনিটের গাঙ্গী খেলায় যে জয়ী হয়, তাকে নিয়ে হাত ধরে আবারও একইভাবে হাঁক ছেড়ে খোঁজা হয় পরবর্তী চ্যালেঞ্জার। এভাবেই একের পর একজন গাঙ্গীবীরের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয় চূড়ান্ত বিজয়ী। এই গাঙ্গী খেলা কোথাও ‘কুস্তি’ আবার কোথাও ‘বলিখেলা’ নামে পরিচিত। তবে শেরপুরে পৌষ মেলার প্রধান আকর্ষণ এই ‘গাঙ্গী খেলা’। বড়-মাঝারি-ছোট এ তিনটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয় গাঙ্গী খেলা। শেরপুর শহরের নবীনগর ছাওয়াল পীরের দরগা সংলগ্ন খোলা মাঠে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ পৌষ মেলা।

প্রতিবছরের মতো এবারও নবীনগর এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ পৌষ মেলার আয়োজন করা হয়। বিকেলে পৌষ মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী ‘গাঙ্গী’ খেলা ছাড়াও ঘোড়দৌড়, সাইকেল রেস এবং তৈলাক্ত কলাগাছ বেয়ে ওঠা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। রাতে এ উপলক্ষে দরগাহ প্রান্তরে বসে বাউল গানের আসর।

এদিকে পৌষ মেলা মাঠে বিভিন্ন পিঠা ও বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন মজাদার খাবারের দোকান বসে। পাশের পালপাড়া এলাকার মৃিশল্পীদের সুনিপুণ হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও তৈজসপত্র ছাড়াও শিশুদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা, মেয়েদের প্রসাধনী ও চুড়ি-মালার দোকানের পসরাও সাজিয়ে বসেছিল দোকানিরা। এ ছাড়া গ্রামীণ ঐতিহ্যের চিনির তৈরি সাজ, উরফা, কদমা, বাতাসা, নিমকি কালাই, খুরমা, ঝুরি, মিষ্টি এবং বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকানও বসে।

পৌষ মেলা আয়োজক কমিটির সমন্বয়কারী নবীনগর এলাকার ব্যবসায়ী ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর মজনু জানান, স্থানীয় নবীনগর এলাকাবাসী প্রায় ২০০ বছর ধরে এ মেলার আয়োজন করছে। প্রতিবছর ছাওয়াল পীরের দরগাহ সংলগ্ন মাঠে বাংলা পৌষ মাসের শেষ দিকে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুরা মেলায় ভিড় করে। শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের ভিড়ে মেলা হয়ে ওঠে জমজমাট ও প্রাণবন্ত। মেলায় গ্রামের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষও ভিড় জমায়।’ পৌষ মেলাকে ঘিরে নবীনগর ও আশপাশের এলাকায় বিয়ে হয়ে যাওয়া মেয়েরা বাবার বাড়ি বেড়াতে আসার প্রচলনও রয়েছে।


মন্তব্য