kalerkantho


চাঁপাইনবাবগঞ্জে সেতু আছে, সড়ক নেই

অব্যবহৃত পড়ে আছে অনেক সেতু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক তৈরি না করেই মাঠের মধ্যে ছোট ছোট সেতু নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। সড়ক না থাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব সেতু ব্যবহৃত হচ্ছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এই সেতুগুলোর কোনো কোনোটি বর্ষা মৌসুমে পানির নিচে চলে যায়। সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হলে সেতুগুলো জনগণের কোনো উপকারে আসবে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। এর মধ্যে চারটি সেতু নির্মিত হয়েছে সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বারোরশিয়া গ্রাম ও সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের মরা নদীর মাঠে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নির্মাণের এক বছর হতে চললেও সেতুগুলো জনগণের কোনো কাজে লাগছে না। সড়ক না থাকায় মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতে পারছে না সেতুগুলো দিয়ে। সুন্দরপুরের বাগডাঙ্গা মধ্যপাড়া থেকে এমএস টোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যাওয়ার পথে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের তিনটি সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এসবেরও সংযোগ সড়ক নেই।

বাগডাঙ্গা গ্রামের মধ্যপাড়ার সোহেল রানা বলেন, সেতু নির্মাণ করেই দায়িত্ব শেষ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। রাস্তা না থাকায় এসব সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। তাঁর প্রশ্ন, ‘যদি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করাই না হয়, তাহলে এসব সেতু করে কী লাভ?’ একই গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি রাস্তা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো খবর নেই। এতে নির্মিত সেতুগুলো জনগণের উপকারে আসছে না।’

তিনি বলেন, ‘এই রাস্তা নির্মাণ হলে আশপাশের চারটি গ্রামের মানুষের উৎপাদিত ফসলসহ অন্যান্য জিনিস পরিবহনে অনেক সুবিধা হতো।’

একইভাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের বাগডোবায় কোদালকাটি দাড়ার (খাল) ওপর প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয় একটি সেতু। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই সেতুর উচ্চতা অনেক কম হওয়ায় বর্ষায় সেতুটি কয়েক ফুট পানির নিচে চলে যায়। গত বর্ষায় মাস দুয়েক পানির নিচে ছিল সংযোগ সড়কবিহীন এই সেতু। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সড়ক না থাকায় গত দুই বছরে নির্মিত ২০টি সেতুর  বেশির ভাগই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন নির্মিত এসব সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কোনো বরাদ্দ নেই। সেতুগুলো নির্মাণ করেই তাদের দায়িত্ব শেষ।

বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম জানান, সেতু নির্মাণের সময় সড়ক নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া দরকার। ইউনিয়ন পরিষদের অর্থে এসব সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

বিষয়টি নিয়ে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মৌদুদ আলম খাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আগামী ২ মাসের মধ্যেই সুন্দরপুরে নির্মিত সেতুগুলোর সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, ‘সেতু নির্মাণ করা থাকলে একদিন না একদিন সংযোগ সড়ক হবেই। এ নিয়ে জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।’

যোগাযোগ করা হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।


মন্তব্য