kalerkantho


ধামরাইয়ের পরিত্যক্ত কারখানায় দুই লাশ

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ধামরাইয়ের পরিত্যক্ত কারখানায় দুই লাশ

ঢাকার ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত কারখানা থেকে নিরাপত্তাকর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাভারের আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুই নারীর লাশ পাওয়া গেছে। বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

সাভার (ঢাকা) : ঢাকার ধামরাইয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে পরিত্যক্ত বেভারেজ কারখানা থেকে দুই নিরাপত্তাকর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরেক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এর আগে সকালে সাভারের আশুলিয়ায় মামার বাসা থেকে ভাগ্নির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানায়, সুইডিশ বেভারেজ নামের ওই কারখানাটি দুই বছর ধরে বন্ধ আছে। মীর মোশারফ আলী এর মালিক। আটক নিরাপত্তাকর্মী বালাম মোল্লার বরাত দিয়ে ধামরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাঈদ আল মামুন জানান, শুক্রবার রাতে বালাম, রাজা মিয়া ও শহীদুল ইসলাম কারখানায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। একপর্যায়ে কারখানার শৌচাগারের টিনের বেড়া ভেঙে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ভেতরে ঢুকে রাজা ও শহীদুলকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরিদর্শক আরো জানান, পরিত্যক্ত কারখানাটির ভেতরে নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতো। এর জেরে ওই দুজনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁদের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে আশুলিয়ার বটতলা এলাকায় মামার বাসা থেকে ভাগ্নি ডলি আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ডলি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের সাতমমোড়া এলাকার মো. কাউসার হোসেনের মেয়ে ও সৌদি প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী। সাঈম নামে দুই বছরের একটি ছেলে আছে তাঁর। মামি রাশিদা বেগম জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর ডলি তাঁদের বাসায় বেড়াতে আসেন। শুক্রবার রাতে স্বামীর সঙ্গে প্রায় ৫৪ মিনিট কথা বলেন। পরে ছেলেকে নিয়ে কক্ষের দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়েন। গভীর রাতে ডলির ছেলের কান্নার শব্দে তাঁদের ঘুম ভাঙে। পরে অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পাশের জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ডলির লাশ ঝুলতে দেখেন। আশুলিয়া থানার এসআই অহিদুল ইসলাম জানান, ডলি আক্তারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ : মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে আছমা বেগম নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে আছমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন সহযোগীসহ আছমার স্বামী নির্মাণ শ্রমিক সরোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়েছে। সরোয়ারের বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, সাত মাস ধরে জালকুড়ি পশ্চিমপাড়ার আরব আলীর বাড়িতে ভাড়ায় থাকছিলেন আছমা ও তাঁর স্বামী সরোয়ার। দুজনেরই এটা দ্বিতীয় বিয়ে। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে কাজে চলে যান সরোয়ার। এ সময় আছমাও ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে রাত ১২টার দিকে সরোয়ার বাসায় ফিরে দরজায় তালা দেখেন। পরদিন সকালে এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় স্ত্রীর লাশ দেখতে পান। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফুদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে আছমা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে স্বামী সরোয়ার হোসেন। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সারোয়ারসহ তার তিন সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’


মন্তব্য