kalerkantho


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন

স্মৃতি হাসায় স্মৃতি কাঁদায়

শাহাদাত তিমির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



স্মৃতি হাসায় স্মৃতি কাঁদায়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তনে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

গতকাল রবিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত এ সমাবর্তনস্থল শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।

এবারের সমাবর্তনে ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যন্ত সব গ্র্যাজুয়েট ও পোস্টগ্র্যাজুয়েটদের আনুষ্ঠানিক সনদ দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ সমাবর্তনে ৯ হাজার ৩৭২ জন শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়। এদের মধ্য ৭৮ জন পোস্টগ্র্যাজুয়েটকে প্রেসিডেনসিয়াল পদক ও সনদ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রেসিডেন্সি স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত রেজবা খানম টুম্পা বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার স্বপ্নের বাতিঘর। এখানে বসে দেশ জয়ের স্বপ্ন দেখতাম। দীর্ঘদিন পর আমার প্রিয় এ ক্যাম্পাসে এসে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছি। এই স্মৃতি আমাকে হাসায় আবার কাঁদায়। ছয় বছরের সাফল্যর স্বীকৃতি হিসেবে প্রেসিডেন্সি পদক ও সনদ পেয়ে আমি উচ্ছ্বসিত ও আপ্লুত।’ ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্বে নিজ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করায় প্রেসিডেন্সি পদক ও সনদ পান টুম্পা।

শনিবার রাতে জিয়ার মোড়ে একটি চায়ের দোকানে আড্ডার সময় অর্থনীতি বিভাগের গ্র্যাজুয়েট বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘একসময় সোবান মামার এই দোকানে চা না খেলে রাতে ঘুম হতো না। দিনের বেশির ভাগ সময় এখানেই আড্ডা দিতাম। এই চায়ের দোকানকে ঘিরে অম্ল-মধুর নানা স্মৃতি জড়িয়ে আছে।’

দীর্ঘদিন পরে হলেও কাঙ্ক্ষিত সনদ পেয়ে দারুণ খুশি শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের রঞ্জন ভৌমিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অস্থায়ী সনদ নিয়েছিলাম। তবে দুধের স্বাদ কখনো ঘোলে মেটে না। এবার মূল সনদ হাতে পেয়ে খুব খুশি লাগছে।’

সমাবর্তনে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের আড্ডায় ক্যাম্পাস জমে উঠেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ আকর্ষণীয় সাজে সাজানো হয়েছিল। ক্যাম্পাসের নতুন রূপ দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছে। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের গ্র্যাজুয়েট রওজাতুন রুম্মান রিতি বলেন, ‘আমাদের রেখে যাওয়া ক্যাম্পাসের থেকে বর্তমান ক্যাম্পাস অনেকটা আলাদা। এখানে নতুন নতুন অনেক কিছু দেখতে পাচ্ছি। ক্যাম্পাসের এই নতুন রূপ আমাকে আকৃষ্ট করেছে।’

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৩ সালের ২৭ এপ্রিল। ১৯৯৯ সালের ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় সমাবর্তন। এর তিন বছর পর ২০০২ সালের ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে তৃতীয় সমাবর্তন।


মন্তব্য