kalerkantho


ডাকাতি রুখে দিয়ে নিখোঁজ মিলল লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর রহমত উল্লাহ (১৮) নামে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানা পুলিশ। রহমত উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চরকামালপুর গ্রামের অটোচালক রিপন মিয়ার বড় ছেলে। তাঁর চোখ উপড়ানো ছিল।

রহমতের বাবা রিপন মিয়া জানান, ডাকাতরা তার একটি ইজিবাইক ডাকাতি করতে পারেনি রহমতের বাধার কারণে।  রহমত প্রতিরোধ গড়ে তুলে এবং ডাকাতদের ব্যবহূত রামদা ও ছোরা কেড়ে নেয়। ওই সময় ডাকাতদলের এক সদস্যকে রহমত চিনে ফেলেছিলেন। রিপন মিয়া বলেন, মূলত ডাকাতদের চিনে ফেলায় তাঁর ছেলেকে খুন হতে হলো। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রহমত ঢাকায় জুতার কারখানায় কাজ করতেন। অসুস্থ হওয়ায় তিন-চার দিন আগে তিনি বাড়ি আসেন।

জানা যায়, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর বাবার ইজিবাইকটি নিয়ে রহমত বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। পুলিশ ও এলাকাবাসীর সন্দেহ, চিহ্নিত ডাকাতরা ইজিবাইক নিতে না পেরে রহমতকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মৃতদেহ দারিয়াকান্দি সেতুর নিচের খালে ফেলে দেয়। রিপনের বাবা জানান, রহমত নিখোঁজ হওয়ায় একটি অপরিচিত ফোন থেকে বারবার ফোন করে বলা হচ্ছিল, ‘তোমার ছেলেকে পেয়ে যাবে। চিন্তা করো না।’

পুলিশের উপপরিদর্শক আব্দুর রহমান জানান, লাশের দুই হাত ও পা রশিতে বাঁধা ছিল। গলায় রশি পেঁচানো ও মুখগহ্বরে মাফলার পোরা ছিল। গতকালই কিশোরগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে রহমতের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। পরে বিকেলে রিপন মিয়া অজ্ঞাতপরিচয় খুনিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। কুলিয়ারচর থানার ওসি মো. নান্নু মোল্লা বলেন, হত্যাকারীরা ধরা পড়বে।

সম্প্রতি কুলিয়ারচরের পশ্চিমাঞ্চলে ডাকাতি বেড়ে গেছে। সংঘবদ্ধ ডাকাতরা ভৈরব-কিশোরগঞ্জ সড়কের কুলিয়ারচর ও ভৈরব অংশের বিভিন্ন স্থানে রাতের বেলা গণহারে ডাকাতি করছে। ২৭ ডিসেম্বর রাতেও কুলিয়ারচরের আলী আকবরী এলাকার রাস্তায় গাছ ফেলে গণডাকাতি করা হয়। এসব নিয়ে এর আগে কালের কণ্ঠে বিস্তারিত প্রতিবেদন ছাপা হয়।


মন্তব্য