kalerkantho


দোহারে যাত্রার নামে অশ্লীলতা

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দোহার উপজেলার বিচ্ছিন্ন পদ্মার চর নারিশা জোয়ারে যাত্রা ও আনন্দ মেলার নামে অর্ধনগ্ন তরুণীদের অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন চলছেই। গত শুক্রবার রাতে ইউএনও অভিযানে গিয়ে অশ্লীলতার প্রমাণ পেয়ে ওই আয়োজন বন্ধ করে দিলেও পরদিন শনিবার থেকেই ফের তা শুরু করেছে আয়োজকরা।

জানা যায়, যাত্রার নামে অশ্লীল এ আয়োজনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত মেঘুলা ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম হাওলাদারসহ আরো কয়েকজন নেতাকর্মী। এতে ক্ষুণ্ন হচ্ছে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি। ক্রমেই ফুঁসে উঠছে এলাকার ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এসব নোংরামির প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছেন অনেকে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দোহার থানা পুলিশ ও নারিশা ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানীকে সঙ্গে নিয়ে পদ্মা নদী পার হয়ে অতর্কিতভাবে নারিশা জোয়ারের ওই যাত্রামঞ্চে উপস্থিত হন। তখন যাত্রামঞ্চে এক তরুণী অশ্লীল নৃত্য করছিল। আর বিভিন্ন বয়সী দর্শক শ্রোতারা ৫০০ ও ৩০০ টাকার টিকিট কেটে তা উপভোগ করছিল। ইউএনওর উপস্থিতি টের পেয়ে গাঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন যাত্রার আয়োজক মেঘুলা ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম হাওলাদার। তবে একপর্যায়ে তাঁকে ডেকে আনা হয় ঘটনাস্থলে। ইউএনও অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শনের বিষয়ে আবুল কালাম হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তখন ইউএনও তাঁকে বলেন, ‘আপনি সামাজিক যাত্রা আয়োজনের অনুমতি নিয়ে অশ্লীলতা ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করে শর্ত ভঙ্গ করেছেন। কাজেই আপনি নিজে মাইকে ঘোষণা দিয়ে এই মুহূর্তে এ আয়োজন বন্ধ করবেন। নচেৎ আমি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হব।’ ইউএনওর কথা শুনে তাত্ক্ষণিকভাবে আবুল কালাম হাওলাদার মাইকে ঘোষণা দিয়ে যাত্রা বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে অঙ্গীকার করেন তিনি আর এমন কার্যকলাপের সঙ্গে কোনোদিন থাকবেন না।

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন বলেন, ‘আমরা যাত্রার নামে এমন অসামাজিক ও নোংরামি কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাই।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন বলেন, ‘শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’


মন্তব্য