kalerkantho


কালিয়াকৈর

গ্যাসের আগুনে দগ্ধ মা-ছেলেসহ তিনজন

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বসতঘরে গ্যাসের আগুনে মা-ছেলেসহ তিনজন দগ্ধ হয়েছে। পুড়ে গেছে ঘরে থাকা আসবাবসহ বিভিন্ন মালপত্র। বিস্ফোরণে পাশের একটি দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার পূর্ব চান্দরা বোর্ডমিল এলাকার নুর নাহার আক্তারের বাড়িতে গতকাল সোমবার ভোরে।

দগ্ধরা হলো শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানার বড় কালিনগরের আলতাফ হোসেন মৃধার মেয়ে নুর নাহার আক্তার (৩৮), নুর নাহারের ছেলে সাব্বির হোসেন (১২) ও ছোট বোন খাদিজা আক্তার (৩২)।

এলাকাবাসী ও নুর নাহারের পরিবার জানায়, বরিশালের মুলাদী এলাকার বাচ্চু হাওলাদারের স্ত্রী নুর নাহার অনেক দিন আগে কালিয়াকৈরের সফিপুর আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে যোগ দিয়ে একাডেমির পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। পরে কাজের সুবাদে তিনি কালিয়াকৈরে বসবাস শুরু করেন। পূর্ব চান্দরা বোর্ডমিল এলাকায় জমি কিনে চার কক্ষের একতলা ভবন নির্মাণ করেন। এরপর পাশের বাসার আহসান উল্লাহ ছবুরের কাছ থেকে টাকা দিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেন। ভবনটির একটি কক্ষে নুর ও তাঁর ভাগ্নি লাইলি আক্তার এবং বাকি কক্ষগুলোতে ভাড়াটে লোকজন থাকে। নুর তাঁর বসতঘরের এক পাশেই গ্যাসের চুলা বসান। তাঁর স্বামী বাচ্চু হাওলাদার ও ছেলে সাব্বির গ্রামের বাড়িতে থাকে। গত রবিবার সাব্বির ও নুরের ছোট বোন খাদিজা এবং লাইলির এক ছেলে কয়েক দিনের জন্য ওই বাসায় বেড়াতে আসে। রাতের খাবার শেষে নুর সাব্বির ও খাদিজাকে নিয়ে নিজ কক্ষে এবং লাইলি তাঁর ছেলেকে নিয়ে পাশের বাড়িতে ঘুমান। গতকাল ভোরে নুর ঘুম থেকে উঠে ঘরে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে যান। তখন বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন দ্রুত পুরো কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওই কক্ষে থাকা নুর, সাব্বির ও খাদিজা দগ্ধ হন। পুড়ে যায় ঘরের আসবাব ও মালপত্র। এ ছাড়া বিকট শব্দে ঘরের দরজা খুলে পাশের একটি দোকানের ওপর পড়লে দোকানটির এক পাশের ইটের দেয়াল ও টিনের চালা ভেঙে যায়। ফাটল ধরে ওই কক্ষের তিন পাশের দেয়ালে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নেভায় এবং দগ্ধদের সফিপুর আনসার ভিডিপি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতলের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। খাজিদার অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে নিম্নমানের পাইপ দিয়ে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই পাইপের ছিদ্রপথে বা অন্য কোনোভাবে গ্যাস বের হয়ে পুরো কক্ষে জমা হয়। ভোরে চুলায় আগুন ধরাতে গেলে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মো. মুজিবুর রহমান সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, চুলা থেকে ছিদ্রপথে গ্যাস বের হয়ে আবদ্ধ ঘরে জমে ছিল এবং চুলায় আগুন ধরাতে গিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ হয়।

ওই বাসার পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া ভারতী দাস বলেন, ‘বিকট শব্দে ঘুম থেকে জেগে দেখি, নুর নাহারের ঘরে আগুন জ্বলছে এবং তিনজন পুড়ে গেছে। ঘরের দরজা খুলে পাশের একটি দোকানের ওপর পড়ে রয়েছে।’ নুরের ভাগ্নি লাইলি আক্তার বলেন, ‘ভোরে বিকট শব্দ শুনে বাড়ি এসে দেখি, গ্যাস বিস্ফোরণ হয়েছে। নুর, সাব্বির ও খাদিজা দগ্ধ হয়েছে। ঘরের গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে বলে জানতে পেরেছি।’

পাশের বাসার আহসান উল্লাহ ছবুর বলেন, ‘তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি থেকে আমি বৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়েছি। নুর নাহার গরিব বলে আমার এখান থেকে তাঁর বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়।’

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড চন্দ্রা জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সুরুয আলম বলেন, গ্যাস বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে অবৈধ সংযোগ নিয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


মন্তব্য