kalerkantho


ফসলি জমিতে অবৈধ ভাটা

ইন্দুরকানীতে মুনাফা কৃষক লীগ নেতার

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামে কচা নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় ফসলি জমিতে একটি অবৈধ ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। এর মালিক উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন বাঘা। উপজেলা প্রশাসন টাকার বিনিময়ে এই ভাটার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠের পর মাঠ এখনো সোনালি আমনের ফসলে ঢাকা। অথচ এরই মধ্যে তোড়জোড় চলছে ভাটায় ইট তৈরির। জমির মালিকরা বলছেন, আর অল্প দিনের মধ্যে তাঁরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। অথচ এরই মধ্যে চার বিঘা ফসলি জমি কেনা হয়েছে। বাকি আরো প্রায় চার বিঘা জমি স্থানীয়দের কাছ থেকে মৌখিকভাবে বার্ষিক ১০ মণ ধান দেওয়ার চুক্তি করেছেন বাঘা।

জমির মালিক মশিউর রহমান, শহীদুল ইসলাম দোদুল, শহিদ পঞ্চায়েত, আবুল, মোশররফ ও দুলাল বলেন, ‘আমরা ১০ বছর আগে সিডরে জানমালসহ বিপুল সম্পদ খুইয়েছি। যার ধকল এখনো সামলে উঠতে পারিনি। এখন আবার নতুন উপদ্রব অবৈধ ইটভাটা। নদীতীরবর্তী মানুষ আমরা। আগামীতে ক্ষেতের ফসল ভালো না পাইলে কোথায় যাব? এ অবস্থা চললে তো না খেয়ে মরতে হবে।’

তাঁদের অভিযোগ, জমিতে পুকুর কেটে ভাটায় মাটি উত্তোলনের ফলে পাশের জমিগুলো ভেঙে পড়ছে। ফলে বাধ্য হয়ে মালিকরা কম দামে ভাটায় তাঁদের জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন। গ্রামের অনেক স্বল্প আয়ের জমির মালিক বাঘার প্রভাবের কারণে সত্য কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন।

বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও চণ্ডীপুর ৩১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘ধানি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ আইনসম্মত নয়। এ ছাড়া এই ভাটার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক পরিবেশদূষণের মুখে পড়বে।’

কেবিআই ইটভাটার মালিক রুহুল আমীন বাঘা দম্ভ নিয়ে বলেন, ‘আমাদের গ্রামে কোনো ভাটার বৈধ কাগজপত্র নেই। তাই আমারও নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি আর বিজয় দিবসের দিন তাঁকে ১০ হাজার টাকাও দিয়েছি।’


মন্তব্য