kalerkantho


নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার নিয়ে মত-দ্বিমত

এমপির প্রস্তাবে মেয়রের বিকল্প

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে হকার বসতে দিতে সংসদ সদস্য (এমপি) সেলিম ওসমান লিখিত প্রস্তাব দিয়েছেন সিটি করপোরেশনকে। এর উত্তরে করপোরেশন জানিয়েছে, শহরের ফুটপাতে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। বরং শহরের চারটি স্থানকে এর বিকল্প হিসেবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

গতকাল রবিবার এমপির ওই চিঠি নগর ভবনে মেয়রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে একই দিন বিকেলে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহতেশামুল হক স্বাক্ষরিত চিঠি এমপির কাছে পাঠানো হয়। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চিঠি পাওয়া ও দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে এমপি উল্লেখ করেন, শহরে বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিবেশ শান্ত করা এবং তাদের অনুরোধে গত শনিবার বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবে আলোচনা করা হয়। এ আলোচনায় উপস্থিত কয়েক হাজার হকার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফুটপাতে দোকান বসানোর জন্য জোরালো দাবি জানায়। সেই সঙ্গে তারা জনগণের চলাচলে কোনো প্রকার বিঘ্ন না ঘটিয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এমপি তাদের আশ্বাস না দিয়ে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তাদের বর্তমান দুরাবস্থার কথা মানবিক বিবেচনায় নেন। তাদের প্রস্তুাবিত দাবির বিষয়ে সিটি করপোরেশনের অনুমতি সাপেক্ষে তাঁর অনাপত্তির কথা জানান। তবে তা অস্থায়ী হিসেবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তারা মেয়রের মাধ্যমে সব জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা একত্রে আলোচনা করে অন্যত্র পুনর্বাসনের মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানের দাবি রাখে।

অন্যদিকে এমপিকে দেওয়া সিটি করপোরেশনের চিঠিতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহতেশামুল হক উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার্স সমস্যা নিরসনের বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সব সময় আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে চাষাঢ়ায় ৫০ শতাংশ জায়গার ওপর একটি হকার্স মার্কেট নির্মাণ করা হয়। সেখানে ৬৫৮ জন হকারকে দোকান দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়। পুনর্বাসিত জায়গায় হকাররা ব্যবসা পরিচালনা না করে শহরজুড়ে ফুটপাতের সম্পূর্ণ অংশ এবং রাস্তার বেশ কিছু অংশ দখল করে ব্যবসা করছে। ফলে জনসাধারণের ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বিঘ্নে চলাচল ও জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে হকারদের ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। এ অবস্থায় এমপির মানবিক উদ্যোগের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামের বর্ধিতাংশ, জামতলা ঈদগাহ মাঠ, নগর ভবনের সম্মুখের অংশ ও নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের পেছনে রাজউকের কার পার্কিংয়ের জায়গায় প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হকার বসানোর বিষয়ে নির্দেশক্রমে সম্মতি জ্ঞাপন করা হলো।

চিঠি পাওয়ার পর এমপি এ কে এম সেলিম ওসমান বলেন, ‘হকাররা শীতবস্ত্র বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়েছে। এটা বিবেচনা করে সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী হকারদের বসতে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ ও প্রশাসন যেন সহযোগিতা করে তা সিটি করপোরেশনকে নিশ্চিত করতে হবে। আমি বিদেশ থেকে ফেরার পর মেয়র ও জেলা প্রশাসক মিলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

তবে হকার্স সংগ্রাম পরিষদের নেতা আব্দুর রহিম মুন্সী বলেন, ‘চিঠি চালাচালিতে সমাধান না হলে আজ সোমবার থেকে লাগাতার আন্দোলন চলবে।’


মন্তব্য