kalerkantho


কলাপাড়ায় উন্নয়ন মেলায় ভিডিও চিত্র প্রদর্শনী

পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎকেন্দ্র

জসীম পারভেজ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎকেন্দ্র

কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ডামি প্রদর্শিত হয় উন্নয়ন মেলায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের সব মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনার সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্রবন্দরে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটবিশিষ্ট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। এত দিন অনেকের ধারণা ছিল, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনের ফলে এলাকার মানুষ স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। তবে কলাপাড়া পৌর শহরে উন্নয়ন মেলায় নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ডেমো মডেল ও ভিডিও চিত্র দেখে জনসাধারণের সেই ভুল ভেঙে গেছে। এই প্রকল্পে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও প্রায় ১০০ তলা ভবনের সমান উঁচু (২৭৫ মিটার) একটি ধোঁয়া নিঃসরণ চিমনি ব্যবহারের কারণে পরিবেশদূষণের কোনো আশঙ্কা নেই।

সম্প্রতি কলাপাড়া পৌর শহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে তিন দিনব্যাপী সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘উন্নয়ন মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ মেলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ২১ বর্গফুটের একটি ডেমো মডেল নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে ভিডিও চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এ বিষয়ে দর্শকদের বিস্তারিত ধারণা দিয়েছেন।

সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশের একটি স্টলে দর্শকের অনেক জটলা। কাছে যেতেই সাত ফুট দৈর্ঘ্য এবং তিন ফুট প্রস্থবিশিষ্ট একটি কাচে ঘেরা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ডেমো মডেলে চোখ আটকে যায়। এ সময় জার্জিস তালুকদারসহ চার উপসহকারী প্রকৌশলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে দর্শকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন।

এ বিষয়ে ‘বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কম্পানি লিমিটেড’-এর প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলাপ করা হলে সহকারী প্রকৌশলী টি এম মুহতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চায়নার অর্থায়নে আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি পদ্ধতিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি (ইউনিট-১) নির্মিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখানে স্থাপন করা হচ্ছে দুটি বয়লার। এই বয়লারের মাধ্যমে ইএসপি পদ্ধতিতে দাহ্য হওয়া কয়লার ক্ষতিকারক ছাই এবং অন্য উপাদান নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। একই সঙ্গে এফজিডি পদ্ধতি ব্যবহার করায় দাহ্য কয়লা থেকে সৃষ্টি হওয়া ক্ষতিকারক নাইট্রোজেন এবং সালফার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এরপর কয়লার আগুনের মাধ্যমে সৃষ্ট গ্যাসের সাহায্যে টার্বানকে ঘুরিয়ে শক্তিশালী জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুল্লিকে শীতল করতে কুলিং টাওয়ার স্থাপন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছের আগুনমুখা নদীর পানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রয়লারের ভেতরের টিউবে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে চুল্লিকে ঠাণ্ডা রাখা হবে।’

স্টলে উপস্থিত সহকারী প্রকৌশলী শাফায়াত রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়লার বর্জ্য (ছাই) নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণের জন্য মাটির নিচে পর্যাপ্ত অ্যাশ পন্ড (ছাইয়ের পুকুর) নির্মাণ করা হয়েছে।

আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করায় উত্পন্ন ধোঁয়া নিঃসরণের জন্য ২৭৫ মিটার উঁচু একটি চিমনি নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই চিমনির মাধ্যমে দূষিত ধোঁয়া মেঘের কাছাকাছি চলে যাবে। তাই পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।’ তিনি আরো জানান, দেশি-বিদেশি টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির জরুরি অবতরণের জন্য একটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানি করা কয়লা খালাসের জন্য আগুনমুখা নদীর তীরে একটি জেটি (টার্মিনাল) স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে একসঙ্গে পাঁচটি লাইটার জাহাজ কয়লা খালাস করতে পারবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাংলাদেশ ও চায়নার ৬০০ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তা ছাড়া ধানখালী ইউনিয়নের যেসব কৃষকের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের পুনর্বাসনের জন্য ১৬ একর জমির ওপর এক হাজার ২০০ বর্গফুটের ৪৩টি বাড়ি, এক হাজার বর্গফুটের ৮৭টি বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের সব মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়ায় পরিবেশবান্ধব এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে।’


মন্তব্য