kalerkantho

কেজি দরে নতুন বই

লোহাগড়া থানায় মামলা

নড়াইল প্রতিনিধি   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কেজি দরে নতুন বই

ফাইল ছবি

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর মডার্ন একাডেমিতে (মাধ্যমিক বিদ্যালয়) ২০১৮ সালের বিনা মূল্যের বই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে গত রবিবার রাতে লোহাগড়া থানায় মামলা করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। মামলায় প্রধান শিক্ষক কাজী মহিউদ্দীনসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে নৈশপ্রহরী ও দপ্তরির সহায়তায় শালনগর মডার্ন একাডেমি থেকে বই বিক্রি করেন প্রধান শিক্ষক। দুজন পুরনো কাগজ ক্রেতা গোপনে বইগুলো বিদ্যালয় থেকে ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিল। যাওয়ার সময় মণ্ডলবাগ বাজারে এলাকাবাসী বইসহ ভ্যান আটক করে। এ সময় পুলিশে খবর দিলে পাশের লাহুড়িয়া পুলিশি তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম এসে বইগুলো জব্দ করেন। তিনি এগুলো শালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান তসরুল ইসলামের জিম্মায় রাখেন। সেখানে সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ৪৬২ কেজি বই রয়েছে।

হাতেনাতে ধরা পড়া এবং বই বিক্রির অভিযোগে মামলা হওয়ার পরও গতকাল সোমবার বিদ্যালয়ে কর্তব্যরত ছিলেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। তাঁকে দেখে এলাকার অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হন। তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ এবং গ্রেপ্তার দাবি করেন।

এ বিষয়ে শালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান তসলুর ইসলাম বলেন, ‘আমি গত বরিবার রাত থেকে থানায় ফোন করেও মামলার কোনো তথ্য পাইনি। আমার কাছে জব্দ বইয়ের তালিকা আছে। তাতে ২০১৮ সালের প্রায় আড়াই শ বই আছে। এ ঘটনার পরও গতকাল ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চেয়ারে বসে আছেন। তাহলে পুলিশের কী ভূমিকা?’

অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোপাল কুণ্ডু, নৈশপ্রহরী ফজলুল হক, দপ্তরি ইউনুস, ক্রেতা লাল চাঁদ ও মহব্বত, ভ্যানচালক ইকরামুল বিশ্বাস ও আলম বিশ্বাস।

বই ক্রেতা লাল চাঁদ বলেন, ‘মহিউদ্দীন স্যারের কাছ থেকে ৫০০ কেজি বই, খাতাপত্র ও রড-টিন কিনেছি। সন্ধ্যার সময় নৈশপ্রহরীর কাছে টাকা দিয়ে মালামাল ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী ঘেরাও করে পুলিশে খবর দেয়।’

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাজী মহিউদ্দীন বলেন, ‘বিদ্যালয় থেকে কিছু পুরনো বই-খাতা বিক্রি করা হয়েছে। তার মধ্যে ২০১৮ সালের বই কিভাবে গেছে, তা আমার জানা নেই। মামলা হলে আইনগত সহায়তা নেব।’

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য নূর বিল্লাহ ও শালনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কেরামত হোসেন মোল্যা বলেন, ‘এখানে কোনো লেনদেন হয়েছে, এটা ধারণা করা যায়। গতকাল দুপুরে মামলার নকল তুলতে থানায় গেলে পরিদর্শক বলেন, ২৪ ঘণ্টা না গেলে নথি দেওয়া যাবে না। থানা কোনো ব্যবস্থা না নিলে আমরা আদালতে মামলা করব।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগসাজশের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আমি মামলার বাদী হয়েছি।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারি বিনা মূল্যের বই কোনো অবস্থায় বিক্রি করা যাবে না। এটা যিনি করেছেন, সেটা অবশ্যই অপরাধ। যেহেতু মামলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

লোহাগড়া থানার পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলামকে কালের কণ্ঠ ঢাকা কার্যালয় থেকে কল করলে তিনি বলেন, ‘সরকারি বই বিক্রি করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলা তদন্তের জন্য নিয়ম অনুযায়ী দুর্নীতি দমন কমিশনের যশোর কার্যালয়ে নথি পাঠানো হয়েছে।’ পুলিশের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা যে অনিয়মের অভিযোগ এনেছে, তা তিনি অস্বীকার করেন।


মন্তব্য