kalerkantho


আখাউড়া ও গাজীপুরে চারজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ বোরহান উদ্দিন আহমেদের মেয়ে নাহিদা সুলতানা রীতা হত্যা মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক মোয়াজ্জেম হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো আখাউড়া পৌর এলাকার বাগানবাড়ির সিরাজ মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়া, সাত্তার মিয়ার ছেলে টিটু মিয়া ও মুন্সীবাড়ির শেখ মোবারকের ছেলে শেখ ফয়সাল।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২ মে সকালে আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরের চন্দনসার এলাকার নিজ বাড়ি থেকে কলেজছাত্রী রীতার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় রীতার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল।

রীতার বাবা শেখ বোরহান উদ্দিন আহমেদ ওই সময় আখাউড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তখন তিনি পুলিশকে জানান, এটি আত্মহত্যা হতে পারে। পরে বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ২১ মে আখাউড়া থানায় মামলা করা হয়।

রীতাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ প্রথমে রীতাদের বাড়ির কেয়ারটেকার আব্দুল আলীমকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রতিবেশি টিটুকে গ্রেপ্তার করা হলে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তবে গতকালের রায়ে কেয়ারটেকার আব্দুল আলীমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গাজীপুরে চালককে খুন করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আদালত তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। সোমবার সকালে গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম এনামুল হক এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আলম (২০) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সাহাপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে।

গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, অটোরিকশাচালক সার ইসলাম (২৪) গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের লোহাকৈর এলাকায় তাঁর খালু আন্নিছ মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় থেকে রিকশা চলাতেন। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি সকালে সার ইসলাম অটোরিকশা নিয়ে বের হন। ওই দিন রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি না ফেরায় আন্নিছ মিয়া তাঁকে খুঁজতে থাকেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে জয়দেবপুর চৌরাস্তার মদিনা রিকশা গ্যারেজের সামনে গিয়ে রিকশাসহ আলম নামের এক যুবককে পান। জিজ্ঞাসাবাদে আলমের কথায় সন্দেহ হলে আন্নিছ মিয়া তাঁকে আটক করেন। পরে আলম স্বীকার করেন রাত ১০টার দিকে যাত্রী সেজে অটোরিকশাটি ভাড়া নিয়ে স্থানীয় বড়চালা এলাকায় গজারি বনের ভেতর চালক সার ইসলামকে তিনি ছুুরি দিয়ে খুন করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ আলমকে গ্রেপ্তার করে এবং সার ইসলামের লাশ উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে পরদিন আন্নিছ মিয়া বাদী হয়ে আলমকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন।


মন্তব্য