kalerkantho


শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ

অধ্যক্ষ নিয়ে টানাটানি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অধ্যক্ষ নিয়ে টানাটানি

মানিকগঞ্জের শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব কুমার দে শিকদারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এদিকে হাইকোর্টে রিট করে পদে পুনর্বহালের চেষ্টা করছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৭ মে কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রবিউল সানি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি করেন। রবিউলের অভিযোগে বলা হয়, এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে কয়েক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার বিষয়ে ছাত্রনেতারা আলোচনা করতে গেলে অধ্যক্ষ দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে তিনি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কটূক্তি করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা শিবালয় থানার উপপরিদর্শক জাহিদুর রহমান বাদল গত ২৫ জুন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৫০০/৫০৬ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

এদিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করতে থাকে। গত ২৯ জুন কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী আকবর অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

এরপর গত ১২ জুলাই বাসুদেব হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রিট পিটিশন করেন। রিট পিটিশনে বলা হয়, যে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সাময়িক বরখাস্ত করেছে, সেটি মেয়াদোত্তীর্ণ। তাই সাময়িক বরখাস্ত বৈধ হয়নি। বাসুদেব বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও অবহতি করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩ জানুয়ারি বাসুদেবকে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশ দেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. নাজমুস সাদাত সেলিম। চিঠিতে বলা হয়েছে, সদর উদ্দিন কলেজের অ্যাডহক কমিটি মেয়াদ ২০১৭ সালের ১৫ জুন শেষ হয়েছে। ফলে ২৯ জুন কমিটির সভাপতি বরখাস্ত করতে পারেন না। হাইকোর্ট আবেদন বিবেচনা করে অধ্যক্ষ পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে। এরপর ডিসি বাসুদেবকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এই চিঠি পাওয়ার পরদিন গত ৪ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বজলুর রশিদ ডিসিসহ পাঁচজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। তিনি জানান, হাইকোর্ট মীমাংসা করার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন চিঠি দিয়ে বাসুদেব এবং তাঁকে (বজলুর) গত মঙ্গলবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেকে নেন। উপ-উপাচার্য মো. মশিউর রহমানের দপ্তরে এ নিয়ে শুনানি হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেই শুনানির কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। বজলুর বলেন, ‘শুনানির আগেই কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।’

এ বিষয়ে বিলুপ্ত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী আকবর বলেন, ‘১৫ জুন মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও আমি ১৬ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছি। ১৭ জুলাই সভাপতির দায়িত্ব পান ডিসি। এ হিসেবে ২৯ জুন আমি বৈধ। বৈধভাবে বাসুদেবকে সাময়িক বহিষ্কার করেছি।’ তিনি জানান, বাসুদেবের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার মামলা চলমান। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কলেজ কর্তৃপক্ষের আরেকটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে বরখাস্ত হওয়ার পর বাসুদেব মামলা করেন বজলুর রশিদ ও সভাপতির বিরুদ্ধে। সে মামলাও নিষ্পত্তি হয়নি। এ অবস্থায় তাঁকে ফের অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া বৈধ হয়নি।

এ বিষয়ে বাসুদেব কুমার দে শিকদার বলেন, ‘সব মামলাই মিথ্যা। আইনগতভাবে সব অভিযোগের মোকাবেলা করব।’

মানিকগঞ্জের ডিসি নাজমুস সাদাত সেলিম বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বাসুদেব কুমারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’


মন্তব্য