kalerkantho


হবিগঞ্জে মুক্তি পেল ‘লক্ষ্মী’

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



হবিগঞ্জে মুক্তি পেল ‘লক্ষ্মী’

বালকদের হাতে বন্দি হয়ে টানাহেঁচড়ার শিকার হয় একটি পাখি। এতে পাখিটির প্রাণ যায় যায় অবস্থা। মায়াবী চেহারার এ পাখিটির নাম লক্ষ্মীপেঁচা। বন্দি এ পাখিটির মালিক কে হবেন—তা নিয়ে একপর্যায়ে শুরু হয় বাকযুদ্ধ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর বন্দিদশায় যেতে হয়নি। এক পাখিপ্রেমীর হস্তক্ষেপে আপন ভুবনে ফিরে যেতে পেরেছে লক্ষ্মী। শুক্রবার সকালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুতাং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুতাং বাজার এলাকায় দেখা মেলে মায়াবী চেহারার এই পাখিটির। এ সময় কাঞ্চন নামের এক বালক তার বন্ধুদের নিয়ে লক্ষ্মীটিকে ধরে ফেলে। একে একে ১০-১২ জন বালক এটিকে নিয়ে শুরু করে টানাহেঁচড়া। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কে হবে এর মালিক—তা নিয়ে চলে বাগবিতণ্ডা। এরই মধ্যে এক পাখিপ্রেমী ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে লক্ষ্মীটিকে অবমুক্ত করে ফিরিয়ে দেয় তার আপন ঠিকানা প্রকৃতিতে। রাসেল নামের ওই পাখিপ্রেমী বলেন, ‘আমি সকালে খবর পাই কাঞ্চন নামের এক কিশোর লক্ষ্মীপেঁচাটিকে ধরে বন্দি করে রেখেছে। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গিয়ে তাদের অনেকক্ষণ বুঝিয়েছি। তারা আমার কথায় রাজি হওয়ায় পাখিটিকে আমি অবমুক্ত করে দিয়েছি।’

রাসেল জানান, এক সময় তাদের বাঁশঝাড়ে মাঝেমধ্যে দেখা যেত এই প্রজাতির পেঁচা। কিন্তু কয়েক বছর ধরে এই প্রাণিটিকে দেখা যাচ্ছে না। পাখিটিকে অবমুক্ত করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। সরকারি বৃন্দাবন কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. সুভাস দেব জানান, পৃথিবীতে রয়েছে অনেক প্রজাতির পেঁচা। এর একটি হচ্ছে লক্ষ্মীপেঁচা (ইঅজগ ঙডখ) বৈজ্ঞানিক নাম (ঞণঞঙ অখখঙঙ) বাংলাদেশে নগরায়ণ, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে প্রায় বিলুপ্তির পথে লক্ষ্মীপেঁচা। তবে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় এই প্রাণীটিকে। এই প্রাণীটি দেখতে খুবই সুদর্শন। সব ধরনের পাখি রক্ষা করতেই সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন।


মন্তব্য