kalerkantho


কেন্দুয়ায় বিয়ের প্রলোভনে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

একজন গ্রেপ্তার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এরশাদ মিয়া (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে এরশাদকে নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বাড়ি পৌর শহরের চন্দগাতী মহল্লায়। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। গতকাল ওই কলেজছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২২ ধারায় জবানবন্দির জন্য আগামীকাল রবিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।

এই ঘটনায় ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রীর মা বাদী হয়ে গতকাল সকালে এরশাদ মিয়ার বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ, কলেজছাত্রীর পরিবার ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, কেন্দুয়া পৌরশহরের সাউদপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও কেন্দুয়া ডিগ্রি কলেজের দর্শন বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী ও চন্দগাতী গ্রামের এরশাদ মিয়া স্থানীয় আল-মন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি নেন। একই স্থানে চাকরি করার সুবাদে বিবাহিত এরশাদ আগের বিয়ের কথা গোপন রেখে ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্পর্ক গড়ে তোলার পর প্রায়ই এরশাদ ওই ছাত্রীকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করতেন। একপর্যায়ে ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর দুপুরে একই স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করার পর ছাত্রীটি এরশাদকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন। ছাত্রীটি বিয়ের জন্য চাপ অব্যাহত রাখলে এরশাদ এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেন। এ সময় এরশাদকে না পেয়ে ওই ছাত্রী তাঁর পরিবার ও এলাকার লোকজনকে বিষয়টি জানালে তারা তা আমলে নেয়নি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রী মোবাইল ফোনে এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় এরশাদ ছাত্রীটিকে ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ী বাজারে যেতে বলে এবং পুনরায় দৈহিক মিলনের প্রস্তাব দেয়। পরে ওই ছাত্রী কৌশলে এরশাদকে কেন্দুয়া পৌরশহরের সাউদপাড়া মহল্লায় তাঁদের বাসায় নিয়ে আসেন। বাসায় এনে এরশাদকে বিয়ে করার কথা বললে তিনি তা অস্বীকার করে সটকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে রাতভর তাঁদের যুক্তি-তর্ক শেষে মতৈক্য না হওয়ায় একপর্যায়ে পুলিশকে খবর দিলে কেন্দুয়া থানা পুলিশ এরশাদকে গতকাল ভোররাতে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ছাত্রীর মা ফুলেছা বেগম গতকাল সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক এরশাদকে আদালতে পাঠানো হয়।


মন্তব্য