kalerkantho


সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কুকীর্তি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কুকীর্তি

কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী অভিযোগ করেন, স্বামী তাঁকে মারধরসহ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা চেষ্টা করেছেন।

নাসির কালীগঞ্জ উপজেলার দুদলি গ্রামের মো. বাসারতুল্লাহর ছেলে। নানা কারণে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত। এরপর থেকে অনৈতিক কাজে নামেন তিনি।

তাঁর স্ত্রী মাছুরা শ্যামনগর উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের মাটি শ্রমিক আবুবকর সিদ্দিকের মেয়ে। সাড়ে তিন বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তিনি এখন অন্তঃসত্ত্বা। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কোনো কিছু না বলে স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। এর পর থেকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

মাছুরা জানান, অভিভাবকদের অমতে বিয়ে হয় তাঁর। স্বামী তাঁকে সাতক্ষীরায় এনে ভাড়া করা বাসায় থাকতেন। নাসিরের সঙ্গে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সুসম্পর্ক ছিল। তিনি ইয়াবাসেবী এবং ইয়াবা ও ফেনসিডিল কেনাবেচা  করেন। প্রায় রাতে তাঁদের বাসায় আসতেন ফিরোজ ও আমিনুর নামের পুলিশের দুই সদস্য। সঙ্গে থাকত শহরতলির ইটাগাছার সাইফুল। তাঁরা একসঙ্গে বসে ইয়াবা খেতেন। পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করে সাধারণ মানুষকে ধরে আনতেন। স্ত্রী প্রতিবাদ করায় তাঁকে মারধর করতেন স্বামী। ‘তোর বাবার নামে মামলা দিয়ে জেল খাটাব’ বলে হুমকি দিতেন। মাছুরা তাঁর দেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখান সাংবাদিকদের। তাঁর প্রথম ভ্রূণ সাড়ে চার মাস পর গর্ভপাতের মাধ্যমে নষ্ট করেন স্বামী। দ্বিতীয় ভ্রূণ গর্ভে আসার পর থেকে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন নাসির। এরই মধ্যে তিনি অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাঁকে ঘরেও নিয়ে আসতেন। বোন পরিচয়ে ঘরে রাখতেন। সঙ্গে বসে ইয়াবা খেতেন। স্ত্রী প্রতিবাদ করলে মারপিট করতেন। এই ভ্রূণ নষ্ট করে দেওয়ার জন্য তাঁকে চলাকাঠ দিয়ে কোমরে আঘাত করেন স্বামী। তাঁর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে খুন করার চেষ্টা করেন। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাঁকে রক্ষা করেন। এখন তাঁকে রাস্তাঘাটে মারধর করার পরিকল্পনা করছেন স্বামী। এরই মধ্যে তিন যুবককে পাঠিয়েছিলেন। পালিয়ে বেঁচেছেন তিনি।

মাছুরা অভিযোগ করেন, এর আগে চার নারীর সর্বনাশ করেছেন নাসির। নতুন করে আরেকটি মেয়ের সর্বনাশ করতে যাচ্ছেন। এর বিচার করতে হবে।

বিয়ের বিষয়ে মাছুরা জানান, শহরের কাটিয়ায় বাসা পাল্টালে বাড়িওয়ালা তাঁদের দুজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। কাটিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাহারুল ইসলামের সহায়তায় গত ১ নভেম্বর বিয়ে পড়ান কাজী মাওলানা আবদুর রাজ্জাক।

মাছুরা বলেন, ‘এত সবের পরও আমি তাঁর ঘর ছাড়তে চাই না। আমি আইনগত সহায়তা চাই।’

অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমার সঙ্গে মাছুরার বিয়ের একটা ঝামেলা আছে সত্য। তবে সে বিষয়ে পরে বলব। এক সপ্তাহ পর বাড়ি এসে বলব। এখন ঢাকায় আছি।’ একপর্যায়ে দম্ভ দেখিয়ে বলেন ‘আমি বিশটা বিয়ে করেছি। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন।’

কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাওন আহমেদ সোহাগ বলেন, ‘সংগঠনবিরোধী নানা অভিযোগে নাসির উদ্দিন এক বছর আগে বহিষ্কৃত হন।’


মন্তব্য