kalerkantho


কালিয়াকৈর বিএনপি

সভাপতিকে অব্যাহতির সুপারিশ তদন্ত কমিটির

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সভাপতিকে অব্যাহতির সুপারিশ তদন্ত কমিটির

দলীয় কার্যক্রমে অনিয়ম, অবহেলা ও নির্বাচনে সরকারি দলের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুলকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। উপজেলা বিএনপির ৫০ জন সিনিয়র নেতাকর্মী স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গঠিত তদন্ত কমিটি তাঁকে অব্যাহতির এ সুপারিশ করে। এদিকে দলীয় কার্যক্রমে ভাটা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ছাইয়্যেদুল আলমকে শুধু পদ নয়; দল থেকেও বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুলের বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপির ৫০ জন সিনিয়র নেতাকর্মী স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরা হয়েছে। মহাসচিবের কাছে পাঠানো অভিযোগে বলা হয়েছে, আট বছর আগে গঠিত উপজেলা বিএনপির কমিটি এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। সভাপতি কাজী ছাইয়্যেদুল আলম দলের ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে নিজের খেয়াল খুশিমতো এবং ব্যক্তিগত লোক নিয়ে একেক সময় একেক সভা করেন। স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে উপজেলা বিএনপির রাজনীতি পরিচালনা করে তিনি উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছেন। গত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন না করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচন করেছে তাঁর অনুসারীরা। যার কারণে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় ঘটে। খালেদা জিয়া গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে জনসভা করতে না পারার পেছনেও হাত রয়েছে ছাইয়্যেদুল আলমের। গত ইউপি নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সঙ্গে আঁতাত করে সব ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীকে হারিয়ে দলের অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে তিনি এলাকায় না থেকে বিভিন্ন অজুহাতে ঢাকায় এবং বিদেশে অবস্থান করতেন। নিজেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালিয়ে আন্দোলনের গতি ব্যাহত করেছেন ছাইয়্যেদুল আলম।

অভিযোগ পাওয়ার পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম ও শহিদুল ইসলামকে। মহাসচিবের নির্দেশে তাঁরা মাঠে খোঁজখবর নিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান এবং কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুলকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতিসহ কয়েকটি সুপারিশ করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আ ন ম খলিলুর রহমান ইব্রাহিম বলেন, ‘তদন্ত কমিটির নির্দেশ সভাপতির মেনে নেওয়া উচিত। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা প্রত্যেক নেতাকর্মীর দায়িত্ব ও কর্তব্য।’ তবে গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল বলেন, ‘দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ ঠিক নয়। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না তাও আমার জানা নেই। এ ছাড়া আমি তদন্ত কমিটির কোনো চিঠি হাতে পাইনি। দলের একাংশের কিছু নেতাকর্মী আমার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।’


মন্তব্য