kalerkantho


বাউফলে বোনকে বেঁধে ভাইকে হত্যা, চাটমোহরে মা খুন

মুরাদনগরে ‘শ্বশুরবাড়ি’তে জামাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



পটুয়াখালীর বাউফলে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে এক নারীকে হাত-পা বেঁধে কুপিয়ে তাঁর ভাইকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামে রবিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আবুল কালাম আজাদ (৪৫)। আজাদের বোন আহত মোসা. রিনা আক্তারকে (২৮) বরিশালে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাবনার চাটমোহরে গতকাল সোমবার ছেলের লাঠির আঘাতে নিহত হয়েছেন মা। কুমিল্লার মুরাদনগরে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে জামাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে রবিবার রাতে।

পটুয়াখালী : মাঝপাড়া গ্রামের রিনা আক্তার জানান, রাতে তাঁর ঘুম ভেঙে গেলে তিনি ঘরে চার-পাঁচজন মুখোশধারী লোককে দেখে চিৎকার দেন। তখন তারা তাঁকে বেঁধে ফেলে এবং মাথায় ও হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপালে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। সকালে পাশের বাড়ির চাচি আনোয়ারা বেগম (৭০) রিনাকে ডাকাডাকি করলে তাঁর জ্ঞান ফেরে এবং বাঁচার জন্য চিৎকার করেন তিনি। আনোয়ারা বলেন, ‘সামনের দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকতেই কালামের লাশ পড়ে থাকতে দেখি; রিনা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় খাটে কাতরাচ্ছিল। এরপর লোকজনকে খবর দিই।’

বাউফল থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। লাশ (গতকাল) ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

পাবনা : চাটমোহর উপজেলার ঘাসিখোলা গ্রামে গতকাল সকালে ছেলের লাঠির আঘাতে নিহত মায়ের নাম আয়েশা খাতুন (৫৫)। অভিযুক্ত ছেলে মাসুদ রানাকে (২৫) স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দিয়েছে। আয়েশা ঘাসিখোলা গ্রামের ইন্তাজ আলীর স্ত্রী।

আটঘরিয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় ছেলে মাসুদকে ডাকতে যান মা আয়েশা। বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করায় ক্ষুব্ধ মাসুদ ঘরে থাকা লাঠি দিয়ে মায়ের মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়ে ঘটনাস্থলেই মায়ের মৃত্যু হয়। মেয়র বলেন, ‘শুনেছি মাসুদের মানসিক সমস্যা আছে। দিনমজুরের কাজ করলেও ঠিকমতো কাজে যেত না। এ নিয়ে পরিবারে মনোমালিন্য হতো। মায়ের মৃত্যুর পর তার কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয়েছে। মায়ের জন্য কান্নাকাটি করছিল।’

মুরাদনগর (কুমিল্লা) : উপজেলার চৌধুরীকান্দি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে রবিবার রাতে মৃতের নাম মানিক মিয়া (৩৫)। পাশের দেবিদ্বার উপজেলার খলিলপুর গ্রামের মুতু মিয়ার ছেলে তিনি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মানিকের স্ত্রী ফরিদা বেগম ও শ্বশুর তছলিম উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ।

মানিকের বড় ভাই মামুন বলেন, “রবিবার রাতে ফল নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায় মানিক। আজ (সোমবার) সকালে মানিকের শ্বশুরবাড়ির স্থানীয় মেম্বার মোস্তফা জানান, ‘তোমার ভাই বিষ খেয়ে মারা গেছে।’ আমার সুস্থ-সবল ভাই বিষ খাওয়ার কোনো কারণই আমরা দেখছি না। তাকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেরে মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে। এর আগেও তারা তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। আমরা মানিকের স্ত্রী ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করব।”

মুরাদনগর থানার ওসি অরজন মিয়া বলেন, মানিকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য