kalerkantho


বরগুনার খাগদন ভাড়ানী খাল উদ্ধার

উচ্ছেদ অভিযান নেই নেই আন্দোলনও

সোহেল হাফিজ, বরগুনা   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



উচ্ছেদ অভিযান নেই নেই আন্দোলনও

বরগুনায় থেমে গেছে খাগদন ভাড়ানী খাল উদ্ধারের সামাজিক আন্দোলন। থেমে গেছে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানও। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বরগুনায় থেমে গেছে খাগদন ভাড়ানী খাল উদ্ধারের সামাজিক আন্দোলন। থেমে গেছে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) উচ্ছেদ অভিযানও। অথচ ২০১৭ সালের শুরুর দিকে শুরু হয়েছিল খাল উদ্ধারে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন।

সে সময় ফেসবুকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খোলা হয় ‘সিটিজেন ভয়েস’ নামের একটি নাগরিক পাতা। এই পাতায় জেলার সর্বস্তরের জনগণ তাদের যেকোনো ভোগান্তি বা অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে। বরগুনার অতিরিক্ত ডিসি (সার্বিক) নূরুজ্জামানের সমন্বয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে এই পাতায় প্রায় এক লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী যুক্ত হয়। একে একে যুক্ত হন সরকারি-বেসরকারি সব দপ্তরের প্রধানরা। এ সময় স্থানীয় সচেতন মহলকে সঙ্গে নিয়ে ডিসির উদ্যোগে শুরু হয় খাগদন ভাড়ানী খাল উদ্ধারের তৎপরতা।

সরকারি জমি জরিপ (সার্ভে) করে খালের সীমানা নির্ধারণসহ অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছিল। অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে কয়েক দফায় দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়। প্রচার-প্রচারণা চালানো হয় মাইকিং করে। নোটিশ পেয়ে কিছু দখলদার তাদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়। এরপর বরগুনার তৎকালীন ডিসির বদলিতে থেমে যায় খাল উদ্ধারের সব তৎপরতা।

এ বিষয়ে খাগদন ভাড়ানী খাল রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা সমাজকর্মী সুখরঞ্জন শীল বলেন, ‘ডিসি বশিরুল আলম থাকা কালে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, বর্তমানে তা একেবারেই ঝিমিয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বর্তমান ডিসির প্রতি আহ্বান জানাই।’

বরগুনার পৌর মেয়র মো. শাহাদাত বলেন, ‘অবৈধ দখলের কারণে খাগদন ভাড়ানী খাল এখন নালার পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। সরকারের কাছ থেকে সামান্য জমি এক বছরের জন্যে ইজারা নিয়ে অনেকে অনেক বেশি জায়গা দখল করে আছে। তাদের  বেশির ভাগ দখলদার আবার খালের সঙ্গে সরাসরি লেট্রিনের সংযোগ দিয়েছে। এতে এক দিকে খাল যেমন মরে যাচ্ছে, তেমনি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নৌপরিবহন ব্যবস্থা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে পৌরবাসী।’

তিনি জানান, খালটি উদ্ধারে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মালেক বরগুনার বর্তমান ডিসিকে নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

বরগুনার তৎকালীন ডিসি ড. মো. বশিরুল আলম বলেন, ‘বর্তমান ডিসির নেতৃত্বে শিগগিরই খাগদন ভাড়ানী খাল দখলমুক্ত হবে এবং তা জনগণের ব্যবহার উপযোগী হবে।’

বরগুনার অতিরিক্ত ডিসি মো. নূরুজ্জামান বলেন, ‘খালটি উদ্ধার করে শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য একটি নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ নিয়ে একটি সভা হয়েছে।’

বরগুনার ডিসি মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘খাল দখলমুক্তির প্রক্রিয়া এখনো চলমান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আ. মালেকের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় পৌর প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে খাল উদ্ধার ও শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ এগিয়ে নিতে সম্ভব সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’


মন্তব্য