kalerkantho

সিলেটে যত্রতত্র অটোরিকশা স্ট্যান্ড

যানজটের জাঁতাকল

সিলেট অফিস   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



যানজটের জাঁতাকল

সিলেট নগরের ব্যস্ততম কোর্ট পয়েন্ট এলাকা। অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে এ সড়ক দিয়ে চলাচল দুরূহ। ছবিটি গতকাল দুপুরে তোলা। ছবি : আশকার আমিন রাব্বি

সিলেট মহানগরের ভিআইপি সড়কের আম্বরখানা পয়েন্টটি এখন বড়সড় সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। পয়েন্টের যত্রতত্র এলোপাতাড়ি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে অটোরিকশাগুলো। শুধু আম্বরখানা নয়, মহানগরের বন্দরবাজার, ধোপাদিঘীরপার, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্তত পাঁচটি স্থানে অটোরিকশা স্ট্যান্ডের দৌরাত্ম্যের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তারা তীব্র যানজটের জাঁতাকলে প্রতিদিন পিষ্ট হচ্ছে। অথচ রহস্যজনক কারণে এ বিষয়ে নির্বিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে চারদিকে চারটি রাস্তা চলে গেছে। পয়েন্ট থেকে সবকটি রাস্তার মোড়ে নিজেদের উদ্যোগে একটি করে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড তৈরি করেছে সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, আম্বরখানা পয়েন্টের বন্দর বাজারমুখী সড়কের ওপরে দুই সারিতে রাখা আছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এর বাইরে সামান্য জায়গা দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ফলে প্রায় সারা দিন ওই সড়কে যানজট লেগে থাকে।

আম্বরখানা পয়েন্টের সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের মোড়েও অটোরিকশা স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। এখানেও ভোর থেকে রাত পর্যন্ত সারিবদ্ধ করে রাখা হয় সিএনজি অটোরিকশা। আন্ত জেলা এই সড়কে প্রতিদিন ট্রাক, বাস ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে। এতে যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। একই দশা আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে টিলাগড়গামী সড়কের মোড়ের। এখানেও আরেকটি স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে কয়েক বছর ধরে। সাধারণ শাহি ঈদগাহ, বালুচর, টিলাগড় পর্যন্ত যাত্রীদের লক্ষ্য করে এটি বসানো হয়েছে। এখানেও বিশৃঙ্খলভাবে যাত্রী উঠানো-নামানো হচ্ছে। আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে বিমানবন্দরমুখী সড়কের মোড়েও রয়েছে আরেকটি অস্থায়ী স্ট্যান্ড। এ সড়কের মজুমদারী পর্যন্ত অল্প দূরত্বে অন্তত তিনটি অটোরিকশা স্ট্যান্ড রয়েছে। তাদের বেপরোয়া আচরণ, ইচ্ছামতো ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে কেউ কথা বললে সংঘবদ্ধ হয়ে মারমুখী আচরণ করে।

নগরের আম্বরখানা ঘূর্ণি এলাকায় বাস করেন ব্যবসায়ী জমির আলী। চিত্রনগরের ব্যস্ততম কোর্ট পয়েন্ট এলাকারও একই অবস্থা। যত্রতত্র অটোরিকশা রাখার কারণে হাঁটার পথও খুঁজে পেতে কষ্ট হয়। কোর্ট পয়েন্ট মসজিদের সামনের পুরো এলাকা ছাড়াও সোবহানীঘাটমুখী সড়কের মোড়েও সারা দিন অটোরিকশা সারি বেঁধে দাড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করে চালকরা। এতে ছোট্ট এ সড়কে সারা দিন যানজট লেগে থাকে।

এ ছাড়া নগরের সোবহানীঘাট, ধোপাদিঘীরপার ও ওসমানী শিশু পার্কসংলগ্ন অর্থমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বসানো হয়েছে অটোরিকশার স্ট্যান্ড। এমনকি নগর ভবনের সামনের সড়কও এখন অটোরিকশার দখলে। নগরের মেন্দিবাগ, নাইওরপুল-মিরাবাজার সড়ক, দাড়িয়াপাড়া গলিরমুখ, শাহি ঈদগাহ, টিলাগড়, ভার্থখলা ভূঁইয়ার পাম্প, বাবনা পয়েন্ট, রেলগেট, কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, হুমায়ুন রশিদ চত্বর, সুবিদবাজার, মদিনা মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তাজুড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে।

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অপরিকল্পিতভাবে এসব স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় নগরে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সিলেট কল্যাণ সংস্থার সভাপতি এহসানুল হক তাহের। তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন কয়েক বছর ধরে যানজট সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন সড়ক সম্প্রসারণ করছে।’

সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নগরের ব্যস্ততম কোর্ট পয়েন্ট, সোবহানীঘাট, আম্বরখানা ও বিমানবন্দর সড়কে যাত্রী পরিবহনের সুবিধার্থে ১০টি করে অটোরিকশা দাঁড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ম উপেক্ষা করে সড়কের অর্ধেকটা দখলে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও হিউম্যান হলার স্ট্যান্ড করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘নগরে সিটি করপোরেশনের অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো স্ট্যান্ড নেই। এগুলো পুলিশ উচ্ছেদ করতে চাইলে নগর সংস্থা থেকে সহযোগিতা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘করপোরেশনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে, কিন্তু রহস্যজনক কারণে এর সুফল মিলছে না।’

 


মন্তব্য