kalerkantho


সরিষাবাড়ী

জনতার রোষে চেয়ারম্যান

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রাস্তার দুই পাশের গাছ কাটতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানলে পড়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার মোতাহার হোসেন। গত সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, পিংনা ইউনিয়নের নরপাড়া থেকে ডুয়াইল কেন্দুয়া সেতু পর্যন্ত দুই পর্বে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) প্রায় ১৭ কিলোমিটার রাস্তার প্রশস্তকরণ কাজ চলছে। রাস্তার দুই পাশের বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছের মালিক স্থানীয় জমির মালিকরা।

পদ্মপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ অভিযোগ করে জানান, তাঁর বাড়ির সামনে থেকে এক কিলোমিটার রাস্তার পাশে একটি এনজিওর সহায়তায় সাবেক ইউপি সদস্য ইউনুছ আলী বনজ ও ফলদ গাছ লাগিয়েছিলেন। গাছগুলো দেখাশোনা করত স্থানীয় দরিদ্র নারীরা। তাদের পরিচয়পত্রও আছে। তারা নিজ উদ্যোগেও গাছ লাগায়। গত কয়েক দিনে ওই এক কিলোমিটার রাস্তাসহ প্রায় তিন কিলোমিটারের গাছ চেয়ারম্যান তাঁর লোকজন নিয়ে এসে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। কয়েক দিনে সহস্রাধিক গাছ কেটে নিয়ে গেছে। বাধা দিলে চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় মোখলেছুর রহমান বাঘাকে মারধর করেন। এতে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়। তারা চেয়ারম্যানকে আটক করে মারধর শুরু করে। তখন চেয়ারম্যান লোকজন নিয়ে সটকে পড়েন। তিনি বলেন, ‘গাছগুলো আমাদের। চেয়ারম্যানের গাছ কাটার কোনো অধিকার নেই। আমরা গাছ বিক্রি করে অনেক টাকা পেতাম।’

এদিকে পিংনা ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মোতাহার হোসেন তাঁকে লাঞ্ছিত করার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কাউকে মারধর করিনি। আমি গাছও কাটতে যাইনি। সাবেক ইউপি সদস্য ইউনুছ আলী ১০ বছর আগে পদ্মপুর এলাকায় রাস্তার পাশে গাছ লাগিয়েছিল। ওই গাছগুলো পরিচর্যা করত এলাকার দরিদ্র নারীরা। তারা ইউপির বিভিন্ন প্রকল্পের শ্রমিক। তারা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না শুনে ফয়সালা করতে গিয়েছিলাম। এ নিয়ে কথা বলার সময় স্থানীয় কিছু লোক আমার ওপর চড়াও হয়।’


মন্তব্য