kalerkantho


নান্দাইল

ধর্ষিতাকে ঘর ভেঙে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নে ধর্ষণের পর এক নারীকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে মারধর করা হয়েছে। এরপর তাঁর পরিবারকে ঘর ভেঙে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

খবর পেয়ে ওই এলাকায় গিয়ে জানা যায়, সরকারি জায়গায় একটি ঘর তুলে বাস করেন বিধবা এক নারী। তাঁর স্বামী বাজারে ঝাড়ুদারের কাছ করতেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। মেয়েও স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে ফিরে আসেন। এ অবস্থায় মেয়ে ও দুই ছোট ছেলেকে নিয়ে তাঁর বসবাস। ওই নারী বাজার পরিষ্কার করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দৈনিক যা পান তা দিয়ে সংসার চালান।

মা জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে স্বামী পরিত্যক্তা হন তাঁর মেয়ে। এর পর থেকে তিনি তাঁর সঙ্গে থাকেন। বেশ কয়েক মাস ধরে চানপুর গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে সোহান মিয়া (২৫) মেয়েকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত সোমবার রাতে মেয়েকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয় সোহান। এরপর তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে গভীর রাতে পাশের এক দোকানে মেয়ের কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে দোকানের শাটার খুলে দেখতে পান, মেয়েসহ সোহান ভেতরে রয়েছে। এ অবস্থায় লোকজন যুবককে আটক করে রাখে। মেয়েটি জানান, সোহান বিয়ের কথা বলে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। মেয়ের এই সর্বনাশের কথায় বিচারের আশায় তাঁরা যুবককে আটক করে রাখেন। সকালে স্থানীয় লোকজন ঘটনা জেনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম ফকির লিটন ও সভাপতি সবুজ মিয়া উল্টো মেয়েকে ‘নষ্টা’ বলে অপবাদ দেন। তাঁর চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে বেদম মারধর করেন। একপর্যায়ে সোহানকে কিছু না করে বাবার হাতে তুলে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সুমন, আল-আমীন ও আব্দুল বারেক জানান, তাঁরা এই অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে তা কোনো কাজে আসেনি। উপরন্তু ওই দুই নেতা মেয়ের মাকে দুই দিনের মধ্যে ঘর ভেঙে এখান থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় ঘরটি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

মেয়ের চাচি বলেন, ‘একে তো মেয়েটির সর্বনাশ করেছে, তার ওপর তাকে মারধর করে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এখন আবার মেয়ের মাকে ঘর ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে। এর সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন।’

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম ফকির লিটন বলেন, ‘ওই মেয়েটি নষ্টা। এলাকাটা নষ্ট করে ফেলেছে। মেয়েই ছেলের দোকানে ইচ্ছ করে গেছে। তাই ছেলেকে ছেড়ে দিয়েছি। মেয়েকে মারপিট করা হয়নি। নিজ ইচ্ছায় সে এলাকা ছেড়েছে।’

অন্যদিকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সবুজ মিয়া বলেন, ‘ওই মেয়ের চরিত্র খুব একটা ভালো না।’

অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বাবা বাদল মিয়া জানান, তাঁর ছেলে ওই বাজারে এক ব্যবসায়ীর দোকানে কাজ করে। ছেলেকে আটকে রাখার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। এ সময় কয়েকজন নেতার হস্তক্ষেপে ছেলেকে ছাড়ানো সম্ভব হয়। তবে এ জন্য কিছু দিতে হয়েছে। কত দিয়েছেন? জানতে চাইলে বাদল বলেন, ‘বাকিতে করছি। অহন দেঅন লাগব।’

শেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব উদ্দিন মণ্ডল বলেন, ‘অত্যন্ত অবহেলিত একটি পরিবারের ওপর এ ধরনের অত্যাচার ন্যক্কারজনক। এর সঠিক বিচার হওয়া দরকার।’

নান্দাইল থানার পরিদর্শক মো. ইউনুস আলী বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় আনার নির্দেশ দিয়েছি। এরপর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


মন্তব্য