kalerkantho


টঙ্গীতে স্কুল মাঠে ছাত্রের বাবাকে পিটিয়ে হত্যা

সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সোর্স খুন, পুবাইলে যুবকের লাশ

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



টঙ্গীতে স্কুল মাঠে ছাত্রের বাবাকে পিটিয়ে হত্যা

প্রতীকী ছবি

গাজীপুরের টঙ্গীতে স্কুলের মাঠে এক ছাত্রের বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আরেক ছাত্রের আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পুবাইল এলাকায় যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সোর্সকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : 

টঙ্গী (গাজীপুর) : স্কুলের মাঠে এক ছাত্রের বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আরেক ছাত্রের আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে। খালি চেয়ারে বসা নিয়ে দুই ছাত্রের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে গত সোমবার রাতে টঙ্গীর মুদাফা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যার শিকার মোক্তার হোসেন পেশায় অটোরিকশা ব্যবসায়ী। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকার লোকজন জানায়, আব্দুল আওয়াল বিদ্যানিকেতনের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে রাত ৯টার দিকে একটি চেয়ার খালি হয়। সজীব চেয়ারটিতে বসতে গেলে সেখানে বসার চেষ্টা করে সোহান। এ নিয়ে দুজন বাগিবতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একজন আরেকজনকে কিল-ঘুষি মারতে থাকলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যরা তাদের শান্ত করতে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে বের করে দেয়। বাইরে গিয়ে আবারও তারা ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। তারা চিৎকার করে নিজেদের লোকজন ডাকাডাকি করতে থাকে। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি, হৈচৈ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর দুই ছাত্রের আত্মীয়-স্বজন অনুষ্ঠানস্থলে দা-বঁটি, লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও রড নিয়ে হাজির হয়। সজীবের বাবা মোক্তার হোসেন কাছের খলিল মার্কেটে বসে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় সজীবকে মেরে ফেলা হচ্ছে শুনে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে পেটানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। মোক্তারের বড় ভাই মনির হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁর ভাতিজা সজীব অনুষ্ঠানে একটি খালি চেয়ারে বসতে চাইলে হৃদয়, পিন্টু, সোহান, পারভেজ, আসিক ও শামীম একযোগে তাকে পিটিয়ে আহত করে। লোকজন তাকে উদ্ধার করতে না এলে সেও মারা যেত। এ ব্যাপারে টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ : সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সোর্স ইফতিখার মুসফিক জয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকায় মুন্নার মাদক স্পটে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ ও এলাকাবাসীর ধারণা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল থেকে জয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরেক সোর্স আওলাদকে আটক করা হয়েছে। জয় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ও সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিলের ব্যবসায়ী আকরাম হোসেনের ছেলে ছিলেন। হাসপাতালটির চিকিৎসক তাহমিনা নাজনীন জানান, গতকাল ভোরের দিকে তিন যুবক ছেলেটিকে (জয়) হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার শরীরের অধিকাংশ স্থানে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সাত্তার জানান, গতকাল সকালে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। যে তিনজন লাশ নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিল তাদের মধ্যে আওলাদকে আটক করেছে সদর থানার পুলিশ। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আরেক এসআই কামরুল ইসলাম জানান, তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক কারবারি মুন্না, শাহ আলমের সঙ্গে কোনো কিছু নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে জয় খুন হয়েছেন।

গাজীপুর : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পুবাইলের দক্ষিণখান এলাকায় ধানক্ষেত থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের (২৫) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের অদূরে লাশের মাথা পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পুবাইল ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, লাশের পরনে জিন্সের প্যান্ট ও ধূসর রঙের ফুলশার্ট এবং হাতে ঘড়ি ছিল। যুবককে অন্যত্র হত্যা করে ঘটনাস্থলে লাশ ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।


মন্তব্য