kalerkantho


সদরপুরে হাঙ্গামা গুলি নিহত ১, আহত ৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কৃষ্ণপুর বাজারসহ আশপাশের এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য নিয়ে বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকির বিল্লাল হোসেন এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান চৌধুরী আব্দুল কাইউম হিরুর মধ্যে বিরোধ চলছিল। বর্তমানে সাবেক চেয়ারম্যান হিরুর পক্ষের নেতৃত্ব দেন ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা আখতারুজ্জামান তিতাস। আখতারুজ্জামান কৃষ্ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। বাংলা নববর্ষে কৃষ্ণপুর হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ নতুন মাত্রা পায়। নতুন বাংলা বছরে ওই হাটের ইজারা আখতারুজ্জামানের সমর্থক কুদ্দুস সরদার পান। গতবার হাটটি ইজারা নিয়েছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন নিজে। এ বছর বিল্লাল হোসেনের ভাই ইনজামুল হক ওরফে মিঠু ওই হাটের ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

আগের বিরোধ ও হাটের ইজারার দ্বন্দ্বে গত ১০ এপ্রিল থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকাল ৬টা থেকে হাঙ্গামা শুরু হয়। এ সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লালের পক্ষে শৈলডুবি, পশ্চিম ভাসানচর, উত্তর ভাসানচর, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের কয়েক শ লোক অংশ নেয়। আর তিতাসের পক্ষে রথখোলা, নিজগ্রাম, রামনগর, তালমা, রাধানগর, ভাবুকদিয়া, ডাঙ্গিসহ বিভিন্ন গ্রামের কয়েক শ লোক অংশ নেয়। দুই পক্ষের দুই সহস্রাধিক লোক ঢাল, সড়কি, বল্লম, টেটা, ইটসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। থেমে থেমে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে।  সংঘর্ষের সময় সকাল ৭টার দিকে কৃষ্ণপুর বাজারে গিয়ে প্রতিপক্ষের কোপে নিহত হন তিতাসের সমর্থক রাধানগর গ্রামের মান্নান সিকদার (৫৫)। এ সময় দুই পক্ষের অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়। এর মধ্যে ছয়জন পুলিশের গুলিতে আহত হয়। সংঘর্ষে পুলিশের আট সদস্য ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সময় কৃষ্ণপুর বাজারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থকদের ৩০টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। পরে পুলিশ এসে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান ফকির বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘গত রবিবার সকালে ফরিদপুর শহরে কোর্ট এলাকায় আমার ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার বিকেলে ও সোমবার সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক আখতারুজ্জামান তিতাস বলেন, ‘গত বছর ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল কৃষ্ণপুর বাজারের ইজারা পান। এবার আমার এক সমর্থক নতুন বছর থেকে কৃষ্ণপুর বাজারের ইজারা পেয়েছেন। বিল্লালের ভাই শিডিউল জমা দিয়েও ইজারা পায়নি। গত রবিবার ছিল ওই বাজারের প্রথম হাট। আমরা যাতে হাটের ইজারা ঠিকমতো তুলতে না পারি এ জন্য ভাইয়ের ওপর কথিত হামলার গুজব ছড়িয়ে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।’

সদরপুর থানার ওসি মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, সংঘর্ষে পুলিশের আট সদস্য ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ ঠেকাতে ১৭টি কাঁদানে গ্যাসের শেল মারা হয়েছে। এ ছাড়া শটগানের ১৩৭টি গুলি ছোড়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। সংঘর্ষে জড়িতদের আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে।

সদরপুরের ইউএনও পূরবী গোলদার জানান, ফের সংঘর্ষ এড়াতে কৃষ্ণপুর বাজার এলাকায় সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

 


মন্তব্য