kalerkantho


শিশুর যে চিঠি নাড়া দেবে পুলিশকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



সাওলিয়া তাহ্সীন অধরা ও সামিহা তাহ্সীন অথৈ। দুই বোন। বয়সে শিশু। অধরা এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। অথৈ পড়ে অষ্টম শ্রেণিতে। তারা সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদায়ী পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে চিঠি লিখেছে। জমানো টাকায় উপহার কিনে দিয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়ে মিজানুর রহমান পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বদলি হয়েছেন। তাঁর বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই বোন উপহার ও চিঠি তুলে দেয়।

বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে মিজানুর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রশংসা কুড়ান। এ নিয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। একটি সংবাদের সূত্র ধরে এক দিনমজুরকে লাখ টাকার বেশি দামের গাভি কিনে দেন তিনি। হাবিবা নামের এক অনাথ মেয়ের বিয়ে দিয়ে তিনি সারা দেশে প্রশংসিত হন।

দুই বোনের দেওয়া চিঠি গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠ’র হাতে এসেছে। চিঠিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গভ. মডেল গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী অথৈর লেখা। তবে বড় বোন অধরার নামও আছে।

তাদের মা নাজমুন নাহার জানান, দুই বোন মিলে যুক্তি করে চিঠি লিখেছে। ওরা পুলিশ সুপারকে খুবই ভালোবাসত। তবে চিঠির বিষয়টি তিনি আগে থেকে জানতেন না। ওস্তাদ দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনে তিতাস আবৃত্তি সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে চিঠিটি পুলিশ সুপারকে দেওয়ার পর তিনি জেনেছেন। তবে চিঠিতে কী লেখা আছে, গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত তিনি জানতে পারেননি।

অধরা ও অথৈ থাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মধ্যপাড়ার ভাওয়াল বাড়িতে। তাদের বাবা মো. সোহাগ ঢাকায় ব্যবসা করেন। দুই বোন আবৃত্তি করার সুবাদে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিত। এভাবে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা হতো।

চিঠির শুরুতে লেখা হয়েছে, ‘সবাই স্যার বলে। কেন জানি আমাদের দুই বোনের আপনাকে স্যার বলতে ইচ্ছে করে না, খুব আপন লাগত। মনে হয় কত আপন! তাই মন থেকে চাচ্চু ডাকতে ইচ্ছে করে। হয়তো সামনে ভয়ে ডাকতে পারব না। তাই এখানেই ডেকে নিচ্ছি।’

চিঠিতে তারা আরো লিখেছে, ‘আগে পুলিশ দেখলে খুব ভয় লাগত। মনে হতো ওনারা মানুষ না, ভয় দেখানোর লোক। কিন্তু অনেক জায়গাতে পুরস্কার নিতে গিয়ে, বাসভবনে আপনাকে দেখা, সবার মুখে আপনার ভালো কথা শোনার পর থেকে এখন আমাদের পুলিশকে দেখলে একটুও ভয় লাগে না। বরং সাহস হয়। কারণ আপনি আমাদের খুব আপন মানুষ। মনে হয়, আমরা যদি কখনো কোনো বিপদে পড়ি, তাহলে আপনাকে জানালে আমাদেরকে কেউ আর কিছু করতে পারবে না।’

এ বিষয়ে বিদায়ী পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি করতে এসে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে, শিশুদের দেওয়া এই চিঠি। আমার যত সফলতা, তার চেয়ে এটি আরো বড়। ছোট্ট শিশুরা যে আমাকে বিশ্বাস করে, পছন্দ করে—এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আমার জীবনের আর কিছু হতে পারে না।’


মন্তব্য