kalerkantho


ঈদের আগে দেড় লক্ষাধিক পরিবারের চাল অনিশ্চিত

বরিশালে বিশেষ ভিজিএফ বিতরণ

বরিশাল অফিস   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বরিশালে চার উপজেলা ও তিনটি পৌরসভার দেড় লাখের বেশি অতিদরিদ্রের জন্য বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির চাল ঈদের আগে বিতরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল মঙ্গলবারের মধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তকর্তার ডিও লেটার (চাহিদাপত্র) না পাওয়ায় ঈদের আগে ভিজিএফ চাল ছাড়ের সম্ভাবনা থাকছে না।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে জেলার ১০ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে তিন লাখ ৪৫ হাজার ৫১০ জন অতিদরিদ্র পরিবারের অনুকূলে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টন চাল (পরিবার প্রতি ১০ কেজি) বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আসে। সে অনুযায়ী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে প্রত্যেক উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে বরাদ্দপত্র পাঠানো হয়। ছয়টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের ও তিন পৌরসভার কাউন্সিলরদের চাল উত্তোলন করে বিতরণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গাছাড়াভাবের কারণে বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, হিজলা ও মুলাদী উপজেলা এবং বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর ও মুলাদী পৌরসভার এক লাখ ৫৮ হাজার ৯০৫টি ভিজিএফ কার্ডধারী অতিদরিদ্র পরিবার চাল পায়নি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের বরাদ্দপত্র অনুযায়ী বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৬৪ হাজার ৫১১টি পরিবারের অনুকূলে ৬৪৫ মেট্রিক টন, উজিরপুরে ২৭ হাজার ৭৫২ জনের অনুকূলে ২৪৫ মেট্রিক টন, মুলাদীতে ২১ হাজার ৬৮১ জনের অনুকূলে ২১৬ মেট্রিক টন ও হিজলায় ৩৪ হাজার ১৭৯ জনের অনুকূলে ৩৪১ মেট্রিক টন, বাকেরগঞ্জ পৌসভায় চার হাজার ৬২১ জনের অনুকূলে ৪৬ মেট্রিক টন, মুলাদীতে চার হাজার ৬২১ জনের অনুকূলে ৪৬ মেট্রিক টন ও উজিরপুর পৌরসভায় এক হাজার ৫৪০ জনের অনুকূলে ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আবু সাঈদ বলেন, বরাদ্দের চিঠি ১৫ দিন আগে এসে পৌঁছায়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভিজিএফ চালের ডিও লেটার না পাওয়ায় চাল ছাড় দেওয়া সম্ভব হয়নি। চাহিদাপত্র পাওয়ামাত্রই চাল গুদাম থেকে ছাড় দেওয়া হবে।

নিজ নিজ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার কাউন্সিলরদের কাছ থেকে ভিজিএফ কার্ডধারীদের তালিকা পাওয়া যায়নি। ফলে ডিও লেটার দেওয়া হয়নি। তালিকা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিও লেটার দেওয়া হবে।

উজিরপুর পৌরসভার মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘কাউন্সিলরদের দেওয়া তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে আজকের (গতকাল) মধ্যে তালিকা পৌঁছানো হবে।’

বরিশাল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে আসা তথ্য মতে বেশির ভাগ উপজেলা ও পৌরসভার ভিজিএফ কার্ডধারীদের মধ্যে চাল বিতরণ প্রায় শেষ পথে। তবে চারটি উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তকর্তার কাছ থেকে ডিও লেটার না পাওয়ায় চার উপজেলা ও তিন পৌরসভার ভিজিএফ কার্ডধারীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়নি।’

 


মন্তব্য