kalerkantho


রংপুরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি এখনো অধরা

রংপুর অফিস   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি এবং মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের মধ্যে পলাতক দুজন এখনো অধরাই রয়ে গেছে। দীর্ঘদিনেও পুলিশ তাদের সন্ধান বের করতে পারেনি। তারা হলো রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জেএমবির কমান্ডার আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব (২৪) এবং জেএমবির রংপুর আঞ্চলিক শাখার সদস্য চান্দু মিয়া (২০)। এ দুই জঙ্গি দেশে কোথাও ঘাপটি মেরে আছে নাকি বিদেশে পালিয়ে গেছে সে ব্যাপারেও পুলিশ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না।

২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকালে রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়ার ভাড়া বাড়ি থেকে রিকশায় করে কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের কাচু আলুটারি গ্রামে ঘাসের খামারে যাচ্ছিলেন ৬৬ বছর বয়সী জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি। দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লবসহ পাঁচ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। আহসান উল্লাহ আনসারী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট এলাকায়। জাপানি নাগরিক খুন হওয়ার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে।

অন্যদিকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে মাজারের খাদেম ৬০ বছর বয়সী রহমত আলীকে ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার সময় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত ১৮ মার্চ চান্দু মিয়াসহ সাত জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। খাদেম হত্যার পর থেকেই চান্দু মিয়া আত্মগোপনে চলে যায়। চান্দু মিয়ার বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়া এলাকায়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু এ বিষয়ে বলেন, রায় হয়েছে বেশ কিছুদিন হয়। এখন পর্যন্ত পলাতক দুই জঙ্গি গ্রেপ্তার না হওয়াটা উদ্বেগের বিষয়। গত ৬ এপ্রিল জঙ্গি আহসান উল্লাহ আনসারীর সহযোগী ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার জেএমবির নারী কমান্ডার সাদিয়া আফরোজ নীনাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে আহসান উল্লাহ আনসারী ও চান্দু মিয়া দেশেই আছে এবং গোপনে জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছে।

রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, রংপুরে জঙ্গিরা আর সক্রিয় হতে পারবে না। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গির সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। বাড়ির লোকজনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে কি না সে ব্যাপারেও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।



মন্তব্য