kalerkantho


বড়লেখায় দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, হুমকি

এক পক্ষের দাবি দখল অন্য পক্ষ বলছে ক্রয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পানিধার গ্রামের রনজিৎ কুমার রায়ের পারিবারিক দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করায় রনজিৎ কুমার রায়কে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পুলিশি তদন্তে এর সত্যতা মিলেছে। তবে দখলে যাওয়া উপজেলার মুছেগুলের বাসিন্দা লাল মিয়া বলছেন, তিনি জমি কিনেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রনজিৎ কুমার রায়ের বাবার দাদা রামকুমার রায় পুরকায়স্থ ১২৩৯ বঙ্গাব্দে নারায়ণ মন্দিরসমেত বসতভিটাকে পারিবারিক দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করেন। লাল মিয়া সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন।

হস্তান্তর অযোগ্য দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে লাল মিয়া তাঁর আত্মীয় শামীম আহমদ, জসীম উদ্দীন, জালাল আহমেদ ও একই এলাকার আছার উদ্দিনকে আমমোক্তারনামাবলে বিক্রি দেখিয়ে জাল দলিল প্রস্তুত করেন। রনজিৎ কুমার রায় চাকরি সূত্রে ঢাকায় অবস্থান করছেন। সম্প্রতি তিনি গ্রামের বাড়িতে এসে বিষয়টি জানতে পারেন।

এ অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয়দের কাছে খোঁজখবর নিলে লাল মিয়া তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

ভুক্তভোগী রনজিৎ কুমার রায় বলেন, ‘আমার বাবা-কাকা তিনজনই বাড়ির বাইরে থাকতেন। লাল মিয়া কাকা রাধাকান্ত রায়কে নিয়ে ঘুরতেন। গত ২৩ মার্চ বাড়িতে এসে সম্পত্তি রক্ষার উদ্যোগ নেওয়ায় আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।’

এ বিষয়ে লাল মিয়া বলেন, ‘২০১৫ সালে ১২ শতক জায়গা বিক্রির চুক্তি হয়। চুক্তি অনুসারে রাধাকান্ত রায়কে ২৭ লাখ টাকা বুঝিয়ে দিয়েছি। আর টিনশেড ঘর রাধাকান্ত রায় নিজেই তৈরি করেছেন। তা ছাড়া আমার বিরুদ্ধে হুমকিধমকির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

বড়লেখা পৌরসভার পানিধার এলাকার কাউন্সিলর আলী আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘বছরখানেক আগে রাধাকান্ত রায় উপস্থিত থেকে লাল মিয়াকে জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছেন। রাধাকান্ত রায় বিক্রির কথা আমাকেও বলেছেন। তবে কিভাবে দিয়েছেন জানি না।’

বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দেবদুলাল ধর বলেন, ‘হুমকিধমকি দেওয়ায় লাল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন রনজিৎ কুমার রায়। এটার সত্যতা

পাওয়া গেছে। আমরা আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তবে বাড়িতে যারা আছে, তাদের কোনো সমস্যা নাই। দখলের বিষয়টি আমরা

জানি না। ওটা সিভিল আদালতের বিষয়।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কাছে একটা অভিযোগ করা হয়েছিল। এসিল্যান্ড বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসককে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। আমি তাত্ক্ষণিকভাবে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এ সম্পত্তি এসএ ও বিএস খতিয়ানে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে এখনো রেকর্ড আছে।’

 



মন্তব্য