kalerkantho


চুয়াডাঙ্গা

টাকা নিয়ে পালিয়েছে ভুয়া এনজিও

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



১০ হাজার টাকা জমা করলে এক লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হবে। এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলমডাঙ্গায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উন্নয়ন সংস্থার সাইনবোর্ড ও ব্যবহূত চেয়ার-টেবিল জব্দ করেছে।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা এক্সচেঞ্জ পাড়ায় একটি ভাড়াবাড়িতে ‘প্রশিকা মানব উন্নয়নকেন্দ্র’ নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কাজ শুরু করে। পরে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয় হিসেবে তারা টাকা জমা নেয়। ওই সংস্থার কর্মীরা প্রচার করে, ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দিলে এক লাখ টাকা এবং পাঁচ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দিলে ৫০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হবে। এতে আকৃষ্ট হয়ে কেউ ১০ হাজার, কেউ পাঁচ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দেয়। যারা টাকা জমা দেয় তাদের জানানো হয়, ঋণের টাকা পাওয়ার দুই মাস পর থেকে তাদের কিস্তি হিসেবে টাকা পরিশোধ করতে হবে। সমিতির লোকজনের কথায় বিশ্বাস করে আলমডাঙ্গার পারকুলা গ্রামের নূর আলীর স্ত্রী রোকেয়া খাতুন পাঁচ হাজার টাকা, একই গ্রামের পিয়ার আলীর স্ত্রী সায়েরা খাতুন পাঁচ হাজার টাকা, আব্দুল মান্নানের স্ত্রী মুসলিমা খাতুন পাঁচ হাজার টাকা ও আলম আলীর স্ত্রী বেলুহার পাঁচ হাজার টাকা জমা দেয়। গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে ওহিদুল ইসলাম জমা দেয় ১০ হাজার টাকা। পারকুলা গ্রাম ছাড়াও আশপাশের আরো বেশ কয়েকটি গ্রাম থেকে এভাবে সঞ্চয়ের টাকা জমা নেয় ওই সংস্থার লোকজন। অবশেষে ১৫-২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

গত মঙ্গলবার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। অনেকে ঋণ নিতে মঙ্গলবার আলমডাঙ্গা শহরের এক্সচেঞ্জ পাড়ায় ওই অফিসে এসে অফিস বন্ধ দেখতে পায়। সারা দিন অপেক্ষার পরও অফিস খোলা না হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওই অফিসে গিয়ে অফিসের সাইনবোর্ড ও অন্যান্য আসবাব জব্দ করে।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি আবু জিহাদ মোহাম্মদ ফখরুল আলম খান জানান, ঋণ দেওয়ার নামে যারা সঞ্চয় হিসেবে টাকা নিয়েছে, তারা অফিস বন্ধ রেখে পালিয়ে গেছে। তাদের মোবাইলফোনও বন্ধ। জড়িতদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে।

 



মন্তব্য