kalerkantho


টঙ্গীতে কোচিং বাণিজ্য চলছেই

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



টঙ্গীতে কোচিং বাণিজ্য চলছেই

টঙ্গী সরকারি কলেজের পেছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দ্বারা পরিচালিত ‘জাহিদ সায়েন্স কেয়ার’ নামের কোচিং সেন্টারের লিফলেট প্রতিদিন বিতরণ করা হচ্ছে। পাশেই তিতুমীর কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র সাইফুল ইসলাম ‘বেসিক লার্নিং হোম কোচিং সেন্টার’ পরিচালনা করছেন। টঙ্গীতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের আশপাশে এমনই বহু কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থেকে শুরু করে স্থানীয় নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব কোচিং সেন্টারে পড়ানো নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

মনিটরিং কমিটির যথাযথ কার্যক্রমের অভাব, এমপিওহীন শিক্ষকদের বাড়তি উপার্জন ও অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কারণে টঙ্গীতে রমরমা কোচিং বাণিজ্য চলছেই। সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে কোচিং নিষিদ্ধ করলেও জেলা-উপজেলা মনিটরিং কমিটির দৃশ্যত কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। অভিযোগ রয়েছে, স্কুল চলাকালেও ক্লাসের ফাঁকে কোনো কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ের আশপাশের কোচিং সেন্টারে গিয়ে পড়ান। অভিভাবকরা জানান, কোনো কোনো শিক্ষক অতিরিক্ত কোচিংমুখী হওয়ায় ক্লাসের পড়া নিষ্প্রভ হয়ে যাচ্ছে। টঙ্গীর বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ঘুরে জানা যায়, প্রজ্ঞাপন জারির পর কিছুদিন বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের আনাগোনা ছিল। অজ্ঞাত কারণে সেই তৎপরতা আর জোরদার হয়নি। টঙ্গী সিটি করপোরেশন সড়ক, টঙ্গী সরকারি কলেজ রোড, পাইলট স্কুল রোড, সফিউদ্দিন একাডেমি রোড, আরিচপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় কোচিং পল্লী গড়ে উঠেছে। প্রতিটি কোচিং পল্লীতে ২০ থেকে ২৫টি ঘরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কোচিং চলে। প্রতি ব্যাচে ৩০ থেকে ৩২ জন করে শিক্ষার্থী থাকছে।

আশরাফ টেক্সটাইল মিলস হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তানজিন তাবাসসুমের মা বলেন, কয়েকজন শিক্ষক আছেন, তাঁদের কাছে না পড়লে শাস্তি দেন, পরীক্ষার খাতায় নম্বর কম দেন। তাই বাধ্য হয়ে ছেলে-মেয়েদের কোচিংয়ে দিতে হচ্ছে।

আমজাদ আলী সরকার পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রণজিত কুমার বলেন, তাঁর কলেজ শাখার সব শিক্ষকই এমপিওহীন। কলেজের আয় কম থাকায় তাঁদের মাত্র পাঁচ-ছয় হাজার টাকা বেতন দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তাঁদের সংসার চালানোর পথ কী হতে পারে? সাত হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠান সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের বেশির ভাগ শিক্ষক কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে দুই শতাধিক শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মাত্র ৬৫ জন এমপিওভুক্ত। অবশিষ্টরা সরকারি বেতন পান না। প্রতিষ্ঠানের বেতনে তাঁরা শুধু বাড়িভাড়া দিতে পারেন। তাঁদের কেউ কেউ হয়তো বা শিক্ষার্থীদের পড়ান। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কেউ কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত নন।

টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী আশরাফুল আলম বলেন, গ্রামের একজন শিক্ষক আট হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা বেতনে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে থাকেন। তাঁদের ছেলে-মেয়েদের চাহিদা মেটাতে প্রাইভেট পড়াতে হয়।

গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, টঙ্গী-গাজীপুরে সরকারি প্রজ্ঞাপন নির্দেশিত মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। নীতিমালা অনুসারে কোনো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য