kalerkantho


শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুট

ঘাটে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ঘাটে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক

গতকাল শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুটে পারাপারের অপেক্ষায় পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি। ছবিটি মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটের। ছবি : কালের কণ্ঠ

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুটে ফেরি চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। স্রোতের প্রতিকূলে ফেরিগুলো নৌ চ্যানেল পাড়ি দিতে পারছে না। তাই বারবার ঘাটে ফিরে আসছে ফেরিগুলো। এ নৌ রুটের নিয়মিত ১৬টি ফেরির স্থানে চলছে মাত্র ১০টি। ফেরি স্বল্পতায় শিমুলিয়া ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। তা ছাড়া বেশ কিছু বাসও আটকা পড়ে আছে। গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে বাসযাত্রীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এ রকম চলতে থাকলে আসন্ন কোরবানির ঈদে এ নৌ রুটে যাত্রী পারাপারে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিআইডাব্লিউটির এজিএম শাহ খালেদ নেওয়াজ জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে পদ্মায় প্রচণ্ড স্রোত দেখা দিয়েছে। স্রোতের গতির থেকে ইঞ্জিনের গতি কম হওয়ায় ফেরিগুলো সামনে এগোতে পারছে না। পদ্মার লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে সৃষ্টি হয়েছে ঘূর্ণাবর্ত। সম্প্রতি এ পয়েন্টের মুখ দিয়ে নৌ চ্যানেলে ঢুকতে একটি ফেরি আরেকটি ফেরিকে পাশ কেটে যাওয়ার সময় স্রোতের টানে ফেরিচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তা ছাড়া ঘূর্ণাবর্তের এ স্রোতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারায় ফেরিগুলো যানবাহন নিয়ে আবার একই ঘাটে ফিরে আসছে। গতকাল বুধবার থেকে রো রো ফেরি এনায়েতপুরী তিন দফা ঘাটে ফির এসেছে। এখন শুধু উচ্চগতিসম্পন্ন ফেরিগুলো চলাচল করছে। এ রকম চলতে থাকলে আসন্ন কোরবানির ঈদে এ নৌ রুটে যাত্রী পারাপারে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তবে ফেরি চলাচল অব্যাহত রাখতে বিকল্প চ্যানেল খোঁজা হচ্ছে। বিকল্প চ্যানেলে ফেরিগুলো একমুখীভাবে (ওয়ানওয়ে) চলাচল করবে। অর্থাৎ যে চ্যানেল দিয়ে ফেরি যাবে, সে চ্যানেল দিয়ে আর ওই ফেরি ফিরে আসবে না। এতে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।

এদিকে ফেরি চলাচল সীমিত হওয়ায় শিমুলিয়া ঘাটে দেখা দিয়েছে বিশাল যানজট। শুধু ঘাটের পার্কিং ইয়ার্ডই নয়, যানজট ছড়িয়ে পড়েছে মহাসড়কেও। মহাসড়কের পাশে এখন কয়েক শ পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। শিমুলিয়া ভাঙা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ছড়িয়ে পড়েছে ট্রাকের সারি।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, এ নৌ রুটের বেশির ভাগ ফেরিই মান্ধাতা আমলের। মাঝেমধ্যেই তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব ফেরির ইঞ্জিন দুর্বল হওয়ায় স্রোতের প্রতিকূলে টিকতে পারছে না। তাই এসব ফেরির ইঞ্জিন শিগগিরই পরিবর্তন করা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিআইডাব্লিউটিএর উপপরিচালক এস এম আজগর আলী বলেন, ফেরি পারাপার অব্যাহত রাখতে বিআইডাব্লিউটিএ লৌহজং টার্নিং হতে প্রায় দেড় কিলোমিটার নিচে গতবারের বিকল্প চ্যানেলটি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে চ্যানেলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। আজ বিকল্প চ্যানেলটি খুলে দেওয়া হতে পারে।

মাওয়া ট্রাফিক বিভাগের টিআই সিদ্দিকুর রহমান জানান, ফেরি চলাচলে সমস্যার কারণে ঘাটে প্রচুর যানজট দেখা দিয়েছে। পার্কিং ইয়ার্ড থেকে এ যানজট চলে গেছে মহাসড়কেও। এ সমস্য দীর্ঘমেয়াদি হলে তা দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে পণ্য পরিবহনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 



মন্তব্য