kalerkantho


কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে দিশাহারা মানুষ

এক সপ্তাহে গৃহহীন ২০০ পরিবার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



কুড়িগ্রামে বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার করাল গ্রাসে দিশাহারা হয়ে পড়েছে কয়েক শ পরিবার। গত এক সপ্তাহেই ভাঙনে বাড়িভিটা ছাড়তে হয়েছে প্রায় ২০০ পরিবারকে। বারবার নদীভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলো আশ্রয় হারিয়ে অন্যের ভিটায় কষ্টের জীবন-যাপন করছে। স্থানীয়ভাবে কাজকর্ম না থাকায় দুই বেলা খাবার জোটাতে পারছে না।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, লালমনিরহাটের তিস্তা সেতু থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটারজুড়ে উন্মুক্ত জায়গায় প্রতি বছর তিস্তা নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার। জেলায় সাতটি স্থান (পয়েন্ট) চিহ্নিত করে পাউবো ২৪২ কোটি টাকার প্রকল্প পরিকল্পনা নিলেও তা এখন ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে। ফলে ভাঙনে দিশাহারা পরিবারগুলো পাচ্ছে না মাথা গোঁজার ঠাঁই। কিছুদিন ধরে উলিপুর উপজেলার থেতরাই ও গুনাইগাছ ইউনিয়নে প্রায় ১০টি পাড়ায় চলছে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন। এক সপ্তাহেই থেতরাই ইউনিয়নের হোকোডাঙ্গা ওয়ার্ডের ফকিরপাড়া, ডাক্তারপাড়া, মেম্বারপাড়া, ভারতপাড়া, পাটোয়ারীপাড়া, মাঝিপাড়াসহ সাতটি গ্রামে প্রায় ২০০ পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে গেছে। নদ-নদীতে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ভাঙনের তীব্রতা। বিলীন হচ্ছে গাছপালা, রাস্তাসহ ফসলি জমি। বসতভিটা ও জমি হারিয়ে বিপাকে পড়েছে ভাঙনকবলিত মানুষ। মাথা গোঁজার জায়গা না পেয়ে বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস।

হোকোডাঙ্গা এলাকার মজিবর (৫০), জাহিদুল (৩০), আঞ্জুয়ারা (৫০) ও রাখালচন্দ্র (৬০) জানান, এক একটি পরিবারের পাঁচ থেকে সাত বার করে বাড়ি ভেঙেছে। তাদের একবার মূল ভূখণ্ডে আরেকবার বালুচরে বাঁধতে হয়েছে আবাস।

তিস্তা মাইলের পর মাইল জমি গ্রাস করেছে। ভূমিহীনে পরিণত করেছে শত শত মানুষকে। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকায় গৃহহীনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

এই এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান জানান, তিস্তার ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। আশ্রয়ের শেষ জায়গাটি ভেঙে যাওয়ায় দিশাহারা পরিবারগুলো। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় বাড়ছে ভুক্তভোগীর সংখ্যা।

থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (মেম্বার) তারামণি রানী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, তিনি ভাঙনকবলিতদের জন্য যেন সুব্যবস্থা করেন এবং তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।’

কুড়িগ্রাম পাউবোর উলিপুর-চিলমারীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, তিস্তায় প্রায় সাতটি স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এই ভাঙন থেকে স্থানীয় জনগণকে রক্ষা করতে ২৪২ কোটি টাকার প্রকল্প পরিকল্পনা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা নদীর বাঁ তীরের ভাঙন থেকে জনগণ রক্ষা পাবে। এতে এলাকার জনগণ অন্যান্য সুবিধাও পাবে।

 



মন্তব্য